ব্রেক্সিট ইস্যু : এমপিদের কাছে প্রতিদিন আসছে হত্যার হুমকি

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপিয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষের এমপিদের প্রতিদিন হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ছদ্ধ নামে, ছদ্ধ পরিচয়ে ইমেইল এবং সামাজিম মাধ্যমে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে পিপলস ভোট ক্যাম্পেইনার এমপিদের।
চলতি মাসের মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট প্রস্তাবসহ ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বেশ কয়েকটি ভোটাভুটি হবে। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে ব্রেক্সিটের ভবিষ্যত। প্রধানমন্ত্রী থেরিসা মে’র প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট ডিল এমপিদের ভোটে পাশ না হলে নো ডিল ব্রেক্সিটের দিকে যাবার চেষ্টা করবে সরকার। অন্যদিকে লেবারপার্টিসহ টোরির ব্যাকব্যাঞ্চার অনেক এমপি নো ডিল ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। এমপিদের বিশাল একটি অংশ নো ডিলে ব্রেক্সিটের চাইতে নতুন করে আরো একটি রেফারেন্ডামের দাবীতে ক্যাম্পেইন করে আসছেন। এই ক্যাম্পেইনের নাম হল পিপলস ভোট। ধারণা করা হচ্ছে, কট্টরপন্থী ব্রেক্সিট সমর্থকরা পিপলস ভোট ক্যাম্পেইনারদের মত পরিবর্তনের জন্যে হুমকি দিয়ে আসছে। যদিও ২০১৬ সালে ইইউ রেফারেন্ডামের প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক শ্বেতাঙ্গ কট্টরপন্থীর ছুরিকাঘাত ও গুলিতে লেবার পার্টির এমপি জৌ কক্স নিহত হবার পর এমপিদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। প্রয়াত এমপি জৌ কক্স রিমেইনার ছিলেন। তার নির্বাচনী এলাকায় সার্জারির সামনে একজন ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ কট্টর লিভ (বর্তমান ব্রেক্সিট) সমর্থক ‘ব্রিটিশ ফার্স্ট’ বলে এমপি জৌ কক্সকে প্রথমে গুলি করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর কাছে গিয়ে ছুরিকাঘাত করেছিল।
কিন্তু ব্রেক্সিট বিরোধী ব্রিটিশ এমপিরা এখনো বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এমপি জানিয়েছেন, তাকে এখনো প্রতিদিন হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে হুমরি বিষয়ে মুখ খুলেছেন লেবার এমপি রূপা হক। লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল এবং এ্যাক্টনের এমপি ডক্টর রূপা হক জানিয়েছেন, গত রোববার ‘জন’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হতাশাজনক একটি ইমেইল পেয়েছেন তিনি। ইমেইলে তাকে নতুন রেফারেন্ডামের ক্যাম্পেইন থেকে বিরত থাকতে এবং সরকারের ডিল অথবা নো ডিল ব্রেক্সিটে কোনো ধরনের বাঁধা না দেওয়ার জন্যে সতর্ক করা হয়। এছাড়াও ইমেইলে এমপি রূপা হকের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘হতদরিদ্র, দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা ইইউ বেশ্যা’ শব্দগুলো ব্যবহার করে এমপি রূপা হককে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ইমেইলে। ইমেইলে বলা হয়, ব্রেক্সিটের পর দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। সেই যুদ্ধে অন্যান্যের সঙ্গে এমপি রূপা হককেও হত্যা করা হতে পারে। যদি তিনি ব্রেক্সিট ইস্যুতে মতামত পরিবর্তন না করেন।


কিংসটন ইউনিভার্সিটির সাবেক লেকচ্যারার ডক্টর রূপা হক ২০১৫ সালের নির্বাচন প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশকেও জানিয়েছেন। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বিষয়টির তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এক টুইটবার্তায় ডক্টর রূপা হক জানিয়েছেন, তিনি পিপলস ভোট ক্যাম্পেইন থেকে পিছপা হবেন না। ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সব এমপিদের প্যানিক বাটন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এই বাটনে চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযোগ হয়ে যাবে। প্যানিক বাটনটি ঘরের কোনো জায়গায় লাগিয়ে রাখা হবে এবং বাইরে বের হলে সঙ্গে রাখবেন। এর জন্যে বছরে প্রায় ১ হাজার পাউন্ডের মতো ব্যয় হবে।
ওদিকে এমপি রূপা হককে হুমকি দেওয়ার আগের দিন শেডো এডুকেশন সেক্রেটারী এনজেলা রায়নারকে হত্যা এবং ধর্ষণের হুমতি দেওয়া হয়। এমপি এনজেলা একটি টিভি স্বাক্ষাতকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রশংসা করেছিলেন। এ কারণে বর্তমান লিডার জেরেমি করবিনের সমর্থক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে শেডো এডুকেশন সেক্রেটারী এনজেলা রায়নারকে এই হুমকি দেন।
যদিও এরমধ্যে এন্টি সেমিটিজম ইস্যু নিয়ে গৃহদাহে পুড়ছে লেবারপার্টি।
এদিকে শুধু লেবারপার্টির এমপিরা নয়, কনজারভেটিভসহ অন্যান্য দলের এমপিরাও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ শঙ্কিত রয়েছেন। টোরির সাবেক মন্ত্রী নিকি মর্গান সোমবার পার্লামেন্টে বলেছেন, ব্রেক্সিট ভোটে এমপিদের মতামত পরিবর্তনে বাধ্য করার উদ্দেশ্যেই সিস্টেমেটিক হুমকির অংশ হিসেবে এসব হচ্ছে কি না, এটা ভেবে তিনি বেশ শঙ্কিত আছেন। বেশ কয়েকদিন আগে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সদ্য পদত্যাগী এমপি এনা সুব্রি পার্লামেন্টের সামনে একটি টিভি স্বাক্ষাতকারে যাবার সময় কট্টন ডানপন্থী ব্রেক্সিট সমর্থকদের হয়রানী ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনিসহ টোরির আরো তিন ব্রেক্সিট বিরোধী এমপি পদত্যাগ করে ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রুপে যোগ দেন। এর আগে এন্টি সেমিটিজম প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে লেবার থেকে এক সাথে আট এমপি বের হয়ে গিয়ে এই গ্রুপ করেন। পরবর্তীতে এতে আরো ২ লেবার এমপি যোগ দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement