`ভাইয়ের কুকীর্তি’, পদ হারালেন প্রভোস্ট

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথীকা বণিকের বাসায় প্রাইভেট পড়াতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই শিক্ষকের ভাই ‘নিরামিষভোজী’ শ্যামল বণিক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল শুক্রবার বিথীকা বণিককে হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে কী কারণে অধ্যাপক বিথীকা বণিককে হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথীকা বণিককে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষের (প্রভোস্ট) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। হলের আবাসিক শিক্ষক ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসা. আঞ্জুমান আরাকে সাময়িকভাবে হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রদান করা হলো। প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ভাড়ামুক্ত বাসা ও অন্যান্য সুবিধাসহ প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা হারে সম্মানি পাবেন। এ আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে।’

এর আগে ভাইকে নির্দোষ দাবি করে অধ্যাপক বিথীকা বণিক দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘ দিন ধরে বাসাতেই থাকে। সে নিরামিষভোজী, শাক-সবজির বাইরে তেমন কিছুই খায় না। সে ইসকন (কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ) ভক্ত। সে যদি অপরাধী হয় তাহলে তার বিচার হোক। তবে আমি চাই সত্য রিপোর্ট আসুক।’

৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে রক্ষা পান ছাত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারে অধ্যাপক বিথীকা বণিকের ওই বাসায় তার মেয়েকে পড়াতেন ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রী। প্রতি মাসে তাকে দেওয়া হতো দুই হাজার টাকা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেখানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে শ্যামল বণিকের বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রী ফোন করেন পুলিশের বিশেষ সেবা দেওয়ার ৯৯৯ নম্বরে। ফোন পেয়ে সেই বাসায় গিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা। রাতেই সেই অধ্যাপকের ছোট ভাই শ্যামল বণিককে আটক করে পুলিশ।

গত বুধবার ওই ছাত্রীকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রাজশাহীর মতিহার থানায় মামলা করা হয়। সেই মামলায় বুধবারই শ্যামল বণিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রভোস্ট বিথীকা বণিকের পদত্যাগ ও তার ভাইয়ের শাস্তির দাবিতে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার হলের সামনে ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের মুখে আজ তাকে প্রভোস্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

সেই রাতে যা ঘটেছিল

অধ্যাপক বিথীকা বণিক জানান, গত মঙ্গলবার ছিল তার স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকী। এ কারণে টিউশনি শেষে ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রীকে রাতে তার সঙ্গে থাকার অনুরোধ করা হয়। তাই রাতে তিনি সেই নারী অধ্যাপকের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে যান। তাদের পাশের কক্ষে ছিলেন অধ্যাপকের দুই মেয়ে, আরেকটি কক্ষে ছিলেন তার ভাই শ্যামল বণিক। রাত দেড়টার দিকে হল থেকে ওই অধ্যাপকের কাছে ফোন যায়। হলের এক আবাসিক ছাত্রীর ঝামেলা হয়েছে, বিষয়টি মীমাংসা করানোর জন্য তিনি হলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিথীকা বণিক আরও জানান, গভীর রাতে হলে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, ছাত্রলীগের সভাপতি, পুলিশসহ অনেককে ফোন করেন তিনি। পরে তিনি রাত ২টার দিকে হলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রভোস্ট হলে যাবেন শুনে ওই ছাত্রীও তার সঙ্গে হলে ফিরতে চেয়েছিলেন। তিনি ওভাবে প্রভোস্টের বাসায় থাকতে চাননি। কিন্তু ওই প্রভোস্ট তাকে হলে আনেননি। এ বিষয়ে প্রভোস্ট জানান, এত রাতে ছাত্রীকে হলে নিয়ে আসাটা খারাপ দেখায় বিধায় তিনি তাকে রুমে রেখে এসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে বাসা থেকে তার কাছে ফোন আসে। সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক তিনি বাসায় যান। গিয়ে পুরো ঘটনা শোনেন। এরই মধ্যে পুলিশ গিয়ে তার ভাইকে আটক করে এবং ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement