ভারতকে হতাশ করে সেমিতে নিউজিল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে ভারতের ভাগ্য ঝুলে ছিল নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের ওপর। এই ম্যাচে আফগানিস্তান জিতলে সেমিফাইনালে খেলার আশা বেঁচে থাকত ভারতের। এমন সমীকরণের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। আর তাতে বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে আফগানিস্তান ও ভারতের।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করেছিল আফগানিস্তান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় কেন উইলিয়ামসনের দল।

মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট করতে এসে ঝড়ো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি ড্যারেল মিচেল। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ১২ বলে ১৭ রান করে ফেরেন তিনি। পাওয়ার প্লে-টা ভালোভাবে কাজে লাগালেও এরপর চাপে পড়ে কিউইরা। প্রথম ৬ ওভারে ৪৫ করার পরের চার ওভারে তোলে মাত্র ২১ রান।এরই মধ্যে বিদায় নেন মার্টিন গাপটিল। ২৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ২৮ রান করে রশিদ খানের শিকার হন তিনি। এতেই টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রশিদ।রানের চাপ না থাকলেও আফগান বোলারদের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে বেশ কিছু সময় ধরে খেলছিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে ধীরে ধীরে হাত খুলে বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেন ডেভন কনওয়ে। এই যুগলের ৫৬ বলে ৬৮ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা। উইলিয়ামসন ৪২ বলে ৪০ ও কনওয়ে অপরাজিত ছিলেন ৩২ বলে ৩৬ রান করে।এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে আসেন দুই আফগান ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও মোহাম্মদ শাহজাদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলে শাহজাদকে সাজঘরে ফেরান এডাম মিলনে। ১১ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। পরের ওভারের প্রথম আরেক ওপেনার জাজাইকে ফেরান ট্রেন্ট বোল্ট। মাত্র দুই রান করে ফেরেন তিনি।

কিউই বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি রহমানুল্লাহ গুরবাজও। টিম সাউদির লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। ফেরার আগে ৯ বলে করেন ৬ রান। পাওয়ার প্লেতে তিন ব্যাটসম্যান হারানোর পর গুলবাদিন নাইবের সঙ্গে ছোট এক প্রতিরোধী জুটি গড়েন নাজিবুল্লাহ জাদরান। তাদের ৩৭ রানের জুটি ভাঙেন ইশ সোধি। ১৮ বলে ১৫ করে বোল্ড হয়ে ফেরেন নাইব।দলের বিপর্যয়ে ঝড়ো ব্যাট করেন জাদরান। অন্যরা রান না পেলেও চার ছয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন তিনি। ৩৩ বলে চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় করেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তাকে কিছু সময় সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। এই যুগলের ৫৯ রানের জুটি ভাঙেন সাউদি। ২০ বলে ১৪ করে কট অ্যান্ড বোল্ট হন তিনি।দীর্ঘক্ষণ থিতু হয়ে বসা জাদরানকে ১৮তম ওভারে এসে ফেরান বোল্ট। ৪৮ বলে ৬ চার ও তিন ছক্কায় ৭৩ রান করে জেমস নিশামের ক্যাচ হন তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান করিম জানাতকেও সাজঘরে ফেরান এই পেসার। বল হাতে তিনটি উইকেট নেন বোল্ট। এ ছাড়াও দুটি উইকেট শিকার করেন সাউদি।

Advertisement