Home কমিউনিটি ভাষা দিবসে ভার্চুয়াল প্রভাতফেরির আয়োজন করল একুশের প্রভাতফেরি পরিষদ যুক্তরাজ্য

ভাষা দিবসে ভার্চুয়াল প্রভাতফেরির আয়োজন করল একুশের প্রভাতফেরি পরিষদ যুক্তরাজ্য

বিলেতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে তার শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া একান্ত প্রয়োজন। আমাদের জাতীর ভাষা,ভাষা আন্দোলন,সমৃদ্ধ সংস্কৃতি,ঐতিহ্য মন্ডিত সংগ্রামমুখর ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারলে তারা ও গর্ব করার মত অনেক বিষয় খুঁজে পাবে।

নিজ শেকড়ের সাথে অটুট সেতুবন্ধন তৈরি হবে যা তাদের গর্বিত আত্মপরিচয়ের সন্ধানে সাহায্য করবে। রোববার সকাল সাড়ে দশটায় একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন পরিষদ যুক্তরাজের উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। ব্রিটেনে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের  অংশ গ্রহণে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভাষা সৈনিক,মুক্তিযোদ্ধা,  মুক্তিযোদ্ধের সংগঠকদের, যারা তাঁদের সেই প্রেরণা  ও অভিজ্ঞতা  নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ এ র‌উফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব জুয়েল রাজ।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিশু কিশোররা এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় সাংবাদিক,প্রাবন্ধিক ও অমর একুশের গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে।

শুরুতে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এক‌‌ই সাথে লন্ডনে প্রভাতফেরি আয়োজন এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য তুলে ধরেন আয়োজন পরিষদের অন্যতম সদস্য আমিনা আলী। এরপর অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন উদীচী,সত্যেন সেন স্কুল অফ পারফর্মিং আর্টস এবং সূরালয়ের শিশু-কিশোররা। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় বিচারক হিসাবে ছিলেন আব্দুস সামাদ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিলেতের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী গৌরী চৌধুরী ও গণ সঙ্গীত শিল্পী গোপাল দাস। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে স্মৃতিচারণে অংশ নেন ভাষাসৈনিক ডাক্তার আহমেদ জামান ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংহতি জানান সহকারী হাই কমিশনার জুলকারনাইন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার আহবাব হোসেন, কালচারাল ইভেন্টের লিড মেম্বার সাবিনা আক্তার। সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, রাজনীতিবিদ গৌছ সুলতান, কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন, সুজিত চৌধুরী, প্রশান্ত পুরকায়স্থ, সাংবাদিক আ স ম মাসুম, আহাদ চৌধুরী বাবু, বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন এর  সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী সহ দেশে বিদেশের শতাধিক মানুষ।

 অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নতুন প্রজন্মের পক্ষে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বিশাল গুপ্ত, কাজী মাখনুম,সেঁজুতি মনসুর প্রমুখ। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন পরিষদের অন্যতম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন,  আবু মুসা হাসান, ডাক্তার রফিকুল হাসান খান জিন্নাহ,  হারুনুর রশিদ, আবেদ আলী আবিদ, নিসার আহমদ, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, নুর উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক  আনসার আহমেদ উল্লাহ,  জামাল আহমদ খান, সুলতানা জলি, মুনজেরিন রশীদ চৌধুরী, শাহরিয়ার বিন আলী, ইফতেখারুল হক পপলু, নাসরিন মঞ্জুরী,সুশান্ত দাস প্রশান্ত, সাইফুল ইসলাম খান সহ অনেকেই।

উল্লেখ্য বিলেতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এবং অপরাপর ভাষাভাষী মানুষের মাঝে অমর একুশের গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর লন্ডনে প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রভাতফেরির বদলে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহনে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত ২০১৬ সালে লন্ডনে প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠন ও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যেগে শুরু হয় একুশের প্রভাতফেরি তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একুশের প্রভাতফেরি  আয়োজন পরিষদ যুক্তরাজ্য।