মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে যাতে বেড়ে ওঠে আমাদের প্রতিটি প্রজন্ম||সিলভিয়া পন্ডিত

আমেরিকান-বাংলাদেশী লেখক সিলভিয়া পন্ডিত বলেছেন, তাঁর লেখালেখির উদ্দেশ্যই হলো বাঙালির গৌরবগাঁথা নতুন প্রজন্মকে জানানো। তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে যাতে বেড়ে ওঠে আমাদের প্রতিটি প্রজন্ম, সেই চেষ্টারই অংশ আমার এই লেখালেখি’।

২৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক  মতবিনিময় সভায় এই মন্তব্য করেন সিলভিয়া।

বিশ্ববাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক আনসার আহমেদ উল্লাহ।

শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মত বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ‘দ্য সাইলেন্ট টিয়ার্স’ এবং অন্যান্য বইয়ের বাঙালি লেখক সিলভিয়া পন্ডিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যুদ্ধের পর পরই রাজাকারদের হাতে মৃত্যু হয় আমার বাবার। বাবার রেখে যাওয়া সব সম্পদও হারাতে হয় যুদ্ধের কারনে।

বাবাহীন অবস্থায় তাদের ছোট ছোট ভাইবোনদের মানুষ করতে গিয়ে তাঁর মায়ের কষ্টের কাহিনীও মত বিনিময়ে তুলে ধরেন সিলভিয়া। সেই ছোট্ট বয়সের মুক্তিযুদ্ধের আবছা স্মৃতি শেয়ার করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমার বাবাসহ সবকিছু ছিনিয়ে নিলেও এর চেতনা লালন করেই আমি বেঁচে থাকতে চাই বাকি জীবন।

৭৫ পরবর্তী সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সিলভিয়া বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন জয় বাংলা বা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যেতো না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও এর নায়ক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতীর জন্ম ইতিহাস যারা বিকৃত করার চেষ্টা করে, এই দেশে থাকারইতো তাদের কোন অধিকার নেই’।  সিলভিয়া বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মকে জানাতেই তাই আমি তাদের সাথে কাজ করতে চাই’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বইটির পর্যালোচনা করে এশিয়ান এইজ’র এডিটর ইন চার্জ সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, আমাদের মুক্তির ইতিহাস সম্পর্কে লেখার জন্য সিলেভিয়া পন্ডিত প্রশংসার দাবিদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও শেয়ার করেন সবার সাথে।

সিলভিয়া পন্ডিতকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে সাবেক কাউন্সিলর সোনাহর আলী বলেন, সিলভিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কবছর ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। লেগাটো ইভেন্ট নামে এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত তিনি। সোনাহর বলেন, ছোট ছোট বাঙালি শিশুদের নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস জানাতে সিলভিয়া নিয়মিত করেন বিভিন্ন প্রোগ্রাম।

এছাড়াও তিনি আমেরিকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত আছেন।

সিলভিয়া পন্ডিতের  বক্তব্যের পর উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, এনএনবি’র প্রতিনিধি মতিয়ার চৌধুরী, সত্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ  আনাস  পাশা, বেতার বাংলার আনিসুর রহমান আনিস, ফটোগ্রাফার খালিদ হোসাইন, বাংলাপোস্ট এর সালেহ আহমেদ, ব্রিটবাংলার সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, সাংবাদিক শোভন, এনটিভির মাসুদ, বাংলা টিভির আব্দুল কাদির মুরাদ, সমাজকর্মী আহমেদ ফখর কামাল, প্রেস ক্লাবের নাজমুল হোসাইন, জগন্নাথপুর টাইমস এর শাহেদ রহমান, লেখক মেহেদী হাসান, স্বদেশ বিদেশের বতিরুল হক, রুমি হক, চলচিত্রকার রুহুল আমিন, অভিনেতা স্বাধীন খসরু, রাজনৈতিক কর্মী হোসনেয়ারা মতিন ও ফেইথ প্রিন্টার্স এর শাহেদ আহমেদ প্রমূখ। কাউন্সিলর রাজীব আহমেদের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, সিলভিয়া পন্ডিত এর প্রথম বই ‘দি ডেকেড্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’ ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বইটি কবিতার  “আপনার কাছে ফেরা”, তৃতীয় বই “তুমি রবে নিরবে “, চতুর্থ বই  উপন্যাস “আলিশার চোখে জল “ এবং পঞ্চম বই একাত্তরের স্মৃতিচারণ ‘দি সাইলেন্ট টিয়ারস’। তাছাড়া এবারের বইমেলায় তার একটা কবিতা ও ছোট গল্পের সংকলন বেরিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement