যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসছে ২৪০ কিলোমিটার বেগে হারিকেন ‘লরা’

ব্রিট বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি বাতাসের গতিবেগ নিয়ে ধেয়ে আসা হারিকেন লরার ব্যাপক তাণ্ডবের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) বলছে, হারিকেন লরার প্রভাবে তীব্র ঝড় ও বন্যা দেখা দিতে পারে। এরইমধ্যে লরার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে কিউবা। মারা গেছেন অন্তত ২০ জন।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে প্রায় একই মাত্রার একটি হারিকেনের তাণ্ডবে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, লরার গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ‘লরা’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করে ক্যাটাগরি ৪ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় এটি আরো শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে লুইসিয়ানা দক্ষিণ-পশ্চিম ও টেক্সাস দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার ৩০ মাইল পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে বলে এনএইচসি’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা বিবিসির খবরে জানা যায়, বুধবার মেক্সিকো উপসাগর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার কথা রয়েছে হারিকেনটির। লরার প্রভাবে লুইজিয়ানা এবং টেক্সাসে ১১ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং ২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছেন, হারিকেন লরার ভয়াবহতার মাত্রা চতুর্থ ক্যাটাগরি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এটি মোকাবিলা করার জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বাতাসের এই গতিবেগ নিয়ে হারিকেন লরা যদি আঘাত হানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে এটিই হবে স্মরণকালের অন্যতম সর্বোচ্চ ঝড়। ইতোমধ্যে ওই এলাকার প্রায় ৫ লাখ মানুষকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টার দিকে হারিকেন লরার কেন্দ্র ছিল টেক্সাসের পোর্ট আর্থারের ১০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর আগে, লরা এবং অন্য একটি ঝড় মার্কোর আঘাতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। মার্কো ইতোমধ্যে লুইসিয়ানায় আঘাত হেনেছে। এই অঞ্চলে এখন তীব্র বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

প্রথমদিকে এ দুই ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানায় ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করে দেয় দেশটির জাতীয় হারিকেন সেন্টার। দেশটিতে একসঙ্গে দুটি ঝড়ের নজিরবিহীন আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদিও পরে মার্কো দুর্বল হয়ে গ্রীস্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপ নেয়।
২৪ ঘণ্টা আগেও হারিকেন লরার ক্যাটেগরির তিন থাকলেও পরবর্তীতে প্রচণ্ড শক্তি সঞ্চয় করায় ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার সতর্কবার্তায় হারিকেনের ক্যাটেগরি চারে উন্নীত করে। চার ক্যাটেগরির হারিকেন বাতাসের গতিবেড় ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার নিয়ে আছড়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বলছে, হারিকেন লরা বর্তমানে পাঁচ ক্যাটেগরির কাছাকাছি পৌঁছেছে। শক্তি সঞ্চয়ের মাত্রা অব্যাহত থাকলে এটি ২৫৪ কিলোমিটারের বেশি বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঘাত হানতে পারে। হারিকেনের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমাতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, লরার প্রভাবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে এরই মধ্যে ২৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে টেক্সাসে ক্যাটাগরি ৩ পর্যায়ের হারিকেন হারভি আঘাত হেনেছিল। সেবার ৬৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে লুইজিয়ানায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ত্রাণ সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি

Advertisement