লন্ডন আন্ডার গ্রাউন্ড স্টাফদের দুদিনের ধর্মঘটে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : চাকুরীচ্যুতি এবং পেনশন স্কীম নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে দেনদরবারের অংশ হিসেবে গত ১লা এবং ৩রা মার্চ দুদিন মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট পালন করে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড স্টাফরা অর্থাৎ আরএমটি ইউনিয়নের সদস্যর। ধর্মঘটের কারণে ট্রেইন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় যাতায়াত করতে হয়েছে। এর ফলে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন সংক্ষেপে টিএফএলের ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লন্ডন মেয়র সাদিক খান।

করোনার কারণে মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকটে থাকা টিএফএলের জন্যে এটি বড় ধাক্কা। লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক ব্যয়ের ৭২ শতাংশ যাত্রী ভাড়ার উপর নির্ভরশীল। মাত্র ২৮ শতাংশ আসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে। করোনা লকডাউনে যাত্রী চলাচল না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল টিএফএল।

বিশ্বের বড় ৬টি শহরের মধ্যে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কই সবচাইতে বেশি নির্ভরশীল যাত্রী ভাড়ার উপর। অর্থাৎ সবচাইতে কম সহযোগিতা পায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে।

নিউইয়র্ক আন্ডার গ্রাউন্ড নেটওয়ার্কের ৩৮ শতাংশ আসে যাত্রী ভাড়া থেকে বাকী ৬২ শতাংশ সরকারী সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। সিঙ্গাপুর ২১ শতাংশ যাত্রী ভাড়া থেকে বাকী ৭৯ শতাংশই সরকারের সহযোগিতা, হংকং ৩৭ শতাংশ যাত্রী ভাড়া এবং ৬৩ শতাংশ সরকারী সহযোগিতা, প্যারিস ৩৮ শতাংশ যাত্রী ভাড়া এবং ৬২ শতাংশ সরকারী সহযোগিতা এবং মাদ্রিদে ৪৭ শতাংশ যাত্রী ভাড়া এবং ৫৩ শতাংশ সরকারী সাহায্য নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক চলে।

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক সংকটে পড়ে করোনা মহামারী শুরুর পর। তবে কঠিন শর্তে সরকার গত ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সর্বমোট ৫ বিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে সরকার। এই বেইলআউট শর্তের কারণেই স্টাফদের দাবী অনুযায়ী পেনশন স্কীমের ঘোষণা দিতে পারছে না টিএফএল। বেইলআউট শর্তের কারণে যাত্রীদের অপছন্দের বাড়তি সিদ্ধান্তগুলো নিতে হচ্ছে লন্ডন মেয়র সাদিক খানকে। যে দাবী নিয়ে দুদিন ধর্মঘট পানল করেছে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টাফরা সে দাবীগুলোর ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক কিছু বলেননি লন্ডন মেয়র।

 

Advertisement