শিরোনামহীন আড্ডায় সাংবাদিক আর রাজনীতিবিদদের এক সন্ধ্যা

আ স ম মাসুম : শুক্রবার লন্ডনের আকাশজুড়ে বিশাল চাদ থাকলেও সেই চাদের সবটুকু আলো যেনো টিকরে পড়ছিলো ওয়েষ্টহ্যামের ইম্প্রেশন হলে, শিরোনামহীন আড্ডায়! রাজনীতিবিদ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আয়োজনে শিরোনামহীন এই আড্ডার কুশিলব ছিলেন সাংবাদিক আর রাজনীতিবিদরা! পেশাগত চাদর থেকে বেড়িয়ে এদিন যেনো সাংবাদিকরা সবাই হয়ে উঠেছিলেন অনেক বেশি মানবিক! সাংবাদিকরা অমানবিক, অন্তত রাজনীতিবিদদের ভাষায়! তবে সেই সাংবাদিকরা যখন নেচে গেয়ে আনন্দ আড্ডায় একটি সন্ধ্যা উপভোগ করেন রাজনীতিবিদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে তখন সাংবাদিকরা রাজনীতিবিদদের চোখে মানবিকই হয়ে উঠেন। অন্যান্য অনুষ্ঠানে যেখানে সাংবাদিকরা বসে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অথবা সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন শুক্রবার রাতে সেটা উল্টে গিয়েছিলো! রাজনীতিবিদরা টেবিলে বসে থেকেছেন আর সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে রেখেছেন।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজনে ছিলোনা কোন বক্তৃতাবাজী, ছিলোনা সাংবাদিকদের ক্যামেরার দাপাদাপি!

শতাধিক সাংবাদিকরা যেনো দীর্ঘদিন পর এমন এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজেদের পেশাগত খোলস থেকে বেরোতে পেরে হাফ ছেড়ে বেচেছেন। প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশার পিংক কালারের শার্ট, একই কালারের শার্ট পড়ে এসেছিলেন প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের! এটি কাকতালীয় মিল না পূর্ব পরিকল্পিত সেটা জানা যায়নি।

সাংবাদিক নিলুফা ইয়াসমীনের চমতকার নীল শাড়ি ছিলো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষনীয় পোশাক! উর্মি মাজহার সব সময় যেমন টিপটিপ তেমনই ছিলেন।  টেলিভিশনে অথবা যেকোন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি ফর্মাল যিনি থাকেন সেই বুলবুল হাসানকে এই প্রথম খুবই ক্যাজুয়েল পোষাকে দেখেছেন সবাই, মনে হচ্ছিলো তিনি হয়তো বিকেলে বাসার সামনে হাটতে বের হয়ে অনুষ্ঠানে চলে এসেছেন।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক বেলাল আহমদ, নজরুল ইসলাম বাসন, মতিয়ার চৌধুরী , কবি হামিদ মোহাম্মদ, সাংবাদিক কামাল মেহেদী সবাই বিভিন্ন কালারের পাঞ্জাবীর একটি প্রদর্শনীই যেনো করে ফেললেন। তবে রং বৈচিত্রে এগিয়ে ছিলেন বেলাল আহমদ ও নজরুল ইসলাম বাসন। শার্টের রঙ্গে চমক দেখিয়েছেন সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশাও। ব্লু কালারের হাফ হাতা শার্ট, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি সব মিলিয়ে শুক্রবার রাতের অন্যতম স্মার্ট লুক ছিলো সত্যবানীর সম্পাদকেরই! সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী বরাবরের মতোই স্যুটেড বুটেড ছিলেন।

গানে মঞ্চ মাতিয়েছেন লন্ডনের নামকরা সব শিল্পীরা। মমতা, লাবনী বড়ুয়া, বাবু যখন গাইছিলেন সবাই তখন মাথা দুলিয়েছেন, হাততালি দিয়েছেন! কিন্তু মঞ্চ কাপিয়ে দিয়েছেন ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী! তিনি যখন গাইলেন, সেই গান শোনার চেয়ে বেশি ওয়ান মোর রিকোয়েষ্টের আওয়াজ উঠেছে, আর তাই গান কি গেয়েছেন সেটা শোনা না গেলেও সেই তালে সায়েম চৌধুরী যে নাচ দিলেন সেটা ছিলো দেখার মতো! এ যেনো সাপুরে আর সাপের খেলা, তারেক চৌধুরী বীন বাজাচ্ছেন আর সায়েম চৌধুরী সাপের মতো করে নেচেছেন!

সাংবাদিক আবু মুসা হাসানের সিটি বাজানো ছিলো দেখার মতো! যেনো তারুন্যে ফিরে গিয়েছিলেন! আবু মুসা হাসান কি প্রথম যৌবনে এভাবেই সিটি বাজিয়ে নিলুফা ইয়াসমীনের মনে দাগ কেটেছিলেন কিনা সেটা জানা যায়নি! প্রেসক্লাব সহ সভাপতি মাহবুব রহমান অনুষ্ঠানস্থল আগে ছেড়ে যাওয়ায় এসব মিস করেছেন! শারীরিক অসুস্থ থাকলেও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রানবন্ত করেছেন প্রবীন সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন বেলাল। বেতার বাংলার ডিরেক্টর হওয়ায় সাংবাদিক মুস্তাক বাবুলকে পুরোটা সময় অভিনন্দন বার্তায় কাটাতে হয়েছে।

প্রেসক্লাবের নিজস্ব শিল্পীদের পরিবেশনা সবাই উপভোগ করেছেন। রুপি আমিন আর সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার এর গান সবাই উপভোগ করেছেন। অনুষ্ঠান নিয়ে নিউজ করার কোন তাড়া ছিলো না কারোরই! তবে সেলফি মাষ্টার রেজাউল করিম মৃধা কয়েকশো সেলফি তুলেছেন! অনুষ্ঠানে সবার আগে উপস্থিত হয়ে রেকর্ড করেছেন সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু!

গান আড্ডার ফাকে প্রেসক্লাবের ইসি কমিটির সদস্যারা ছোটখাটো একটি মিটিং করে ফেললেন সাংবাদিকদের সামার ট্রিপের ব্যাপারে!

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান শরীফসহ সিনিয়র নেতাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এই আড্ডায়। আথিতেয়তার চূড়ান্ত দেখিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। জামাল খানের অক্লান্ত পরিশ্রম ছিলো দেখার মতো! খাবারের ম্যানুতেও ছিলো চমক! সিলেটের ঐতিহ্য বিরুই চালের ভাতের সাথে ভাজা মাছ, মাছের ভর্তার ব্যাতিক্রমী ম্যানুর সাথে চিতল মাছের কুপ্তা, মিট, চিকেন কারি ইত্যাদি আয়োজনে উপস্থিত সবার মন ভরে যায়!

রাত ১১টায় যখন মিলন মেলা ভাঙ্গে তখন মঞ্চে চলছিলো রুপি আমিন আর আব্দুস সাত্তারের কন্ঠে জনপ্রিয় গান মহেশখালির পান! অনুষ্ঠানে এমন বাঙ্গালীয়ানা খাবারের পর পানের জন্য যে অতৃপ্তি ছিলো মনে সেটি যেনো আরো বাড়িয়ে দিলেন তারা! পানের অতৃপ্তি নিয়ে যখন সবাই বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছেন তখন মধ্যরাতের পূর্ন চাদ আকাশ থেকে যেনো অভিযোগ করছে! চাদের আলো চুরি করা এক সন্ধ্যার কারনে ম্লান হয়ে যাওয়া চাদের অভিযোগ শোনার সময় নেই কোন সাংবাদিকের!

 

Advertisement