সমকালীন ভাবনা (এক) : লিখেছেন আহমদ হোসেন হেলাল

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বললেন; “বাংলাদেশের মানুষ
খুব পরিশ্রমী”

বাংলাদেশ সবুজে ভরা বৈচিত্রময় একটি দেশ। আয়তনে দেশটি খুব ছোট্ট কিন্তু কি নেই এই দেশে? সারা দুনিয়ায় এই দেশের পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। পৃথিবীর অন্যতম ছয় ঋতুর এই দেশটির মানুষ শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও হাসতে জানে।

আর এই দেশের ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে। তাই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান লাভ করেছে।

আর এই দেশে মরক্কোর বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা প্রায় ৬৭০ বছর আগে বাংলার মাটিতে এসেছিলেন। তিনি বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক শহর সিলেটে এসে হযরত শাহজালালের সাথে দেখা করে বেশ চমৎকৃত হয়েছিলেন। সিলেটে হযরত শাহজালালের অলৌকিক ক্ষমতা দেখে ইবনে বতুতা অবাকও হয়েছিলেন।

দেশটিতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগে থাকে। জাপান যেমন ভুমিকম্প অধ্যুষিত দেশ তেমনি বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ ও খরা, সাইক্লোনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে।

তবুও এই দেশের মানুষ মুখে হাসি নিয়ে বুকে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে এগিয়ে যায়।
জাপানের সাথে বাংলাদেশের অপূর্ব মিল। জাতীয় পতাকায়ও জাপানীদের মত কিছুটা মিল রয়েছে ।

দুই দেশের মানুষ বেশ পরিশ্রমী। জাপানের মত রাজনীতির স্থীতিশীলতা ও সততা থাকলে বাংলাদেশ অনেক দুরে এগিয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই।

কিন্তু এই ছোট বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব মানুষের আগ্রহ যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশর সাফল্য দেখতে পৃথিবীর বড় বড় মানুষ আসছেন।

সেদিন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট গভীরতম আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশে আসলেন। বিশব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ খুব পরিশ্রমী। সহজে পিছিয়ে পড়ে না। তারা ভালো কাজ করতে জানেন। তিনি সত্যি বলছেন।

বাংলাদেশ অনেক কিছু রপ্তানি করছে।

Bangladesh is the BIGGEST EXPORTER of garments product in the world just after China

বাংলাদেশের মানুষের কর্মকান্ডে বিদেশীরা চমৎকৃত হচ্ছে। আমার অবসর প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ইংরেজ বন্ধু জন জেসফ। তার ও তার স্ত্রী ক্রিসের পছন্দ বাংলাদেশী শেফদের হাতের তৈরী রান্না। এই ইংরেজ দম্পতির বাংলাদেশ দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো কিন্তু অদ্য কিছু দিন আগে জন জেসফের স্ত্রী ক্রিসের ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তাই তারা বাংলাদেশে যেতে পারছে না। তাদেরকে আমার লেখা একটি ইংরেজী কবিতার বই ও দুইটা বাংলাদেশী গামছা উপহার দিয়েছিলাম। তারা ভালবাসার বাংলাদেশের সামান্য উপহার গামছা দুটা গলায় মাফলারের মত ব্যবহার করে ঘুরে বেড়ান।

আরেকজন বৃটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রানসিস হলট। এই মহিলা ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের সেবা করছেন । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে তিনি যুদ্ধাহত মানুষদের সেবা করেছেন।
তার পর জন্মভূমি বৃটেনে ফিরে যান নি। তিনি বরিশাল নগরের অক্সফোর্ড মিশনে দুস্থ শিশুদের অবৈতনিক ইংরেজী শিক্ষক ছিলেন।
মৃত্যুর আগে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চান। কয়েকবার আবেদন করে বিফল হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোধহয় লুসির বিষয় জানেন না। জানলে অবশ্যই লুসির বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবার আশাপূর্ণ হত। বর্তমানে দেশে সবার ভরশা প্রধানমনত্রী শেখ হাসিনার উপর।

নোবেল জয়ী ডক্টর ইউনুসের জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে। কিন্তু নিজ দেশে কিছুটা অবহেলিত তিনি। বিভিন্ন কোর্টে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে তাঁকে। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ গুণি ও ভাল মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলে আনন্দ পায়। উৎসাহ ভাল। আবার অতি উৎসাহ মাঝে মাঝে বিপদ ডেকে আনে। কিন্তু বড় কথা হলো সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন, তার ফেরেশতারা সব লিখছেন। দুনিয়া আর পরকালে সবাইকে জবাব দিহীতার মুখোমুখি হতে হবে।

কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৎ, নিষ্ঠাবান বিচক্ষণ, ভাল মানুষ নানাগুণে ও মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন। শুধু তিনিই পারবেন দেশে সব কিছু স্বাভাবিক রাখতে।
আর শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের নেতা নন,
তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম মুল্যবান ও জনপ্রিয় নেতা। তার উদ্যোগে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে মিমাংসা হলে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে প্রশংসীত হবেন। তার উদারতার প্রমাণ আছে। যেমন প্রধানমনত্রী শেখ হাসিনা কয়েক বছর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বঙ্গভবনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কিন্তু খালেদা জিয়া আমন্ত্রণ গ্রহন করেননি। তারপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়েছিলেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে কেন জানি বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আমরা সাধারণ মানুষ আশা করি প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও আমন্ত্রণ বা সমবেদনা জানাবেন।
কারণ হাদিসে একটা কথা আছে, দেশ শাসনভার মহান আল্লাহতায়ালার নিকট থেকে আমানত- আল-হাদিস।

নোবেল জয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস তিনটি জিনিসকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। জিনিস তিনটি হলো, এক. দারিদ্র্য। দুই. বেকারত্ব। তিন. পৃথিবী থেকে কার্বন-দুষণ দূর করা।

বাংলা সাহিত্যে আরেকজন নোবেল বিজয়ী বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশে এসেছিলেন। এসেই তিনি সিলেটকে শ্রীভুমি নাম দিলেন। একজন কবি তিনটি দেশের জাতীয় সংগীত লিখেছেন। বাঙালী কবি বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের দামাল ছেলেরা সারা বিশ্বে লাল সবুঝের পতাকা পত পত করে উড়িয়ে দিচ্ছে। মাশরাফির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশংসা করছে ক্রিকেট বিশ্বের পন্ডিতরা।

দুর্দান্ত বোলার মুস্তাফিজ ও বিদেশী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালসহ তরুন খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের লাল সবুজের জার্সি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের খেলা উপহার দিয়ে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখছে।

সাকিবুল হাসানের নাম তো বেশ কয়েক বার অলরাউন্ডার রেঙ্কিংয়ের তালিকায় এসেছে ।

এখন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা হিলারী ও তেনজিং এর মত হিমালয় পর্বতের চুড়ায় উঠে বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাচ্ছে। তারা হলেন মুসা ইব্রাহিম, ওয়াসিফিয়া নাজরিন ও নিশাত মজুমদার। বাংলাদেশের অনেক অর্জন।

দু’হাজার সতরো সালের শেষের দিকে কঙ্গো শান্তি মিশনে প্রথম দুই বাংলাদেশী নারী বৈমানিক ফলাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও তামান্না লুৎফী। দেশের ইতিহাসে প্রথম সামরিক নারী বৈমানিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তারা দুইজন।

আফ্রিকায় কয়েকটা দেশে হিংসা-বিদ্বেষ যেনো লেগেই আছে। যে মহাদেশে মানুষ মানুষকে হিংসা করবে সেই দেশ বা মহাদেশে শান্তি থাকে না।

সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে এখনও ভালো মানুষ আছে। তাই এই সব বিপদগামী দেশে জাতীসংঘ শান্তি মিশন পাঠায়।

বাংলাদেশ এই শান্তি মিশনের সক্রিয় সদস্য। এতে সামরিক, বিমান ও পুলিশ বাহিনীতে পুরুষের পাশপাশি মহিলারাও গৌরবের সাথে কাজ করছেন।

কিছু অভিমত :
কবি বলছেন, সকল দেশের সেরা যে আমার জন্মভূমি।
কবি ঠিকই বলেছেন, আমাদেও নিজের জন্মভূমির যত
প্রশংসা করা হউক না কেনো কম মনে হয়। কিন্তু আমরা লেখক সাধারণের একটু আবেগ একটু ভালবাসা কিন্তু আবেগ নিয়ে দেশ চলে না। তবুও দেশকে নিয়ে আমরা অনেক দুর পাড়ি দিতে হবে। বাংলাদেশের সাধীনতার পর কয়েকটা ঘটনায় দেশের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ছন্দসমতা হারিয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের সময়কে শুধু একটি ঘটনা বলা যায় ।

নারায়নগঞ্জে শামীম ওসমান এমপি বনাম মেয়র সেলিনা হায়াত সংঘাত ও সংঘর্ষ। মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি আহত হয়ে অসহায় ভাবেই মাটিতে পড়ে রইলেন। বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীর মানুষ আইভি সহ অনেক মানুষ আহত হওয়ার খবর দেখলো। এতো সভ্যতার ও গণতন্ত্রের অপমান ।

তাইতো পন্ডিত বলেছিলেন, যদি মৃত্যুহীন হতে চাও ,তোমাকে সৎভাবে দেশের কাজ করতে হবে ।
আরেকজন পন্ডিত বলছেন, কোন জাতির প্রচারপত্রের নমুনা দেখে সে জাতির আদর্শের কথা বলা যেতে পারে।
অন্য আরেকজন জ্ঞানী ব্যক্তি বলে গিয়েছেন, সভ্যতা আর গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত পরমতসহিঞুতা ।
এক কবি ইংরেজীতে কবিতা লিখেছেন,

it is quite long time

bengal became free

the masses rivalled one another

and the magnitude was momentous

Advertisement