Advertisement

মায়াময় পৃথিবী ছেড়ে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক আজিজ আহমদ সেলিম চলে গেছেন অনেক অনেক দূরে, না ফেরার দেশে।

সেলিম ভাইয়ের চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। সিলেটের সাংবাদিকদের যেকোন সমস্যায় পাওয়া যেত সেলিম ভাইকে। সিলেটের সাংবাদিকদের অভিভাবক ছিলেন সেলিম ভাই।
প্রিয় সেলিম ভাইয়ের সাথে রয়েছে অনেক স্মৃতির। বড় মনের এই মানুষের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি, পেয়েছি অনেক ভালবাসা।  যা কখনো ভুলা যাবেনা।
হে আল্লাহ, তোমার মায়ার বান্দাকে তুমি বেহেশত দান কর।
সম্প্রতি করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে আজিজ আহমদ সেলিম ভাই সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থা ছিল আশংকাজনক। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ও কিছু হয়নি। সব চেস্টার পর ১৮ অক্টোবর,  রোববার তিনি চলে গেছেন মহান মাবুদের কাছে।

২০০৫ সালের  প্রথম দিকের কথা। আমি তখন ব্রিটেনে আসবো। আমার ফ্লাইট ছিল সিলেট থেক বিকেলে। আগের দিন সেলিম ভাইর সাথে দৈনিক যুগভেরীর অফিসে দেখা করে এসেছিলাম। তার পরও সকালে সেলিম ভাইর বাসা সিলেটের মজুমদারীর ‘রিতা কুটির’ গিয়ে আবারো দেখা করলাম এবং দোয়া চাইলাম। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আর বললেন, তোমার জন্য দোয়া আছে।তিনি আমাকে বলেছিলেন ব্রিটেন গেলেও তুমি সাংবাদিকতা  ছাড়িও না।সেলিম ভাই কথা রেখেছিলাম। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমি সাংবাদিকতা ছাড়তে পারনি। কিন্ত আজ সেলিম ভাই। কিন্তু তাঁর কথা ঠিকই রেখেছিলাম। সেলিম ভাইর কথা বারবার আজ মনে পড়ছে। আজিজ আহমদ চৌধুরী সেলিম ভাই আমাকে খুব বেশী মায়া করতেন, আদর করতেন। তিনি অসম্ভব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। দৈনিক উত্তর পূর্ব যখন বের করার পুস্তুতি চলছে। তখন হঠাত একদিন আমাকে ফোন করে সেলিম ভাই বললেন, তোমাকে আমরা দৈনিক উত্তর পূর্ব পত্রিকায় যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি  আমরা নিয়োগ করছি। তুমি নিয়মিত নিউজ পাঠাবে।আমিও নিয়মিত নিউজ পাঠাতে লাগলাম।আমার অনেক নিউজ লিড নিউজ হয়েছে।
আজিজ আহমদ সেলিম ভাই সিলেটের সাংবাদিক সমাজে সদাচার ও ভদ্রতার উদাহরণ। মিথ্যা এবং অহমিকা মুক্ত একজন খাটি ভদ্রলোক। দলমত নির্বিশেষে সকলের আপনজন, প্রিয়ভাজন।

সদাচার হলো আলোক রশ্মির মতো। ব্যক্তির নিজের ও আশেপাশের সবাইকে আলোকিত করে। সদাচার বা সুন্দর ও কল্যাণময় আচরণ ব্যক্তির জীবনকে যেমন আনন্দময় করে তোলে, তেমনি পরিবার ও সমাজের সানুষকে প্রফুল্ল মন্ডিত করে। আজিজ আহমদ সেলিম ভাই আমাদের মনে সেই প্রফুল্ল ছড়াতেন।

ছাত্র জীবন থেকে আজিজ আহমদ সেলিম ভাই কর্ম-উদ্দীপক ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে সিলেট এমসি ইন্টারমেডিয়েট কলেজে (বর্তমান সিলেট সরকারী কলেজ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

কর্ম জীবনে আজিজ আহমদ সেলিম বাংলাদেশের প্রাচীনতম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক যুগভেরীতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। একসময় সাহিত্য পাতাও দেখতেন।

১৯৮৯ সালে মাহবুবুর রহমান আমেরিকায় চলে গেলে আজিজ আহমদ সেলিম ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। পরবর্তীতে যুগভেরী দৈনিক হিসেবে যাত্রা করে, তখনও আজিজ আহমদ সেলিম ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন।
১৯৯৩-৯৪ সেশনে আজিজ আহমদ সেলিম ভাই সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ক’বছর আগে আজিজ আহমদ সেলিম সিলেট জেলা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন এবং প্রথমে আহবায়ক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি  দৈনিক উত্তরপূর্ব’র জন্ম থেকে প্রধান সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিটিভির সিলেট জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ছিলেন সক্রিয়ভাবে জড়িত।

আজিজ আহমদ সেলিম ভাই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি, সুজন সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ ভারত-মৈত্রী সমিতি সিলেটের সভাপতি হিসেবে সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন।

আজিজ আহমদ সেলিম ভাই একজন প্রফেশনাল ক্রিকেট আম্পায়ার। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথেও জড়িত থেকে খেলাধুলার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছন।

এবছর জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক জরুরী সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দায়ী দেশ সমূহের প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবিতে তরুণদের অংশগ্রহণে ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট’ ও মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্যদের সাথে আজিজ আহমদ সেলিম ভাই ও এতে নেত্বত্ব দেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে গঠন করা হয়েছে ‘সিলেট উন্নয়ন পরিষদ‘। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে ধীরগতি, আখাউড়া-সিলেট ডাবল রেললাইন নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা, সিলেটের বাদাঘাট বাইপাস সড়ক ও বিমানবন্দর সড়ক প্রশস্তকরণ, সুরমা নদী খনন, সিলেটে বঙ্গবন্ধু পার্ক সহ আরো অনেক কাজ কোথায় যেন আটকে আছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এসব দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জোরদার করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে সাংবাদিক আজিজ আহমদ সেলিমকে আহ্বায়ক ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
আমার যখন যুক্তরাজ্য আসা চুড়ান্ত। তখন আমি দৈনিক  যুগভেরীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে হিসাবে কাজ করছি। একদিন অফিসে আমরা কাজ করছিলাম। তখন সেলিম ভাই বললেন, শামীমতো আমাদের ছেড়ে চলে  যাচ্ছে ব্রিটেন। তাকে তো আমরা যুগভেরী থেকে একটি সংবর্ধনা  দিতে হবে। আমি ব্রিটেন আসার তিন দিন আগে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সময় সেলিম ভাই আমাকে একটি কলম গিফট দিয়েছিলেন।সেই কলমটি আমি অনেক যত্ন করে রেখে রেখেছিলাম।
সাংবাদিক আজিজ আহমদ সেলিম ভাইর সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। আমি সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সাদার পাড়া আল আমিন যুব সংঘের সভাপতি ছিলাম প্রায় ১০ বছর। ব্রিটেন আসার আগ পর্যন্ত সফলভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালান করেছি। এর আগে আল আমিন যুব সংঘের সেক্রেটারি  ছিলাম। তখন আমরা আল আমিন যুব সংঘের পক্ষে নিয়মিত নাটক করতাম, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতাম। সেই সব অনুষ্ঠানে আমি সব সময় আমার প্রিয় সেলিম ভাইকে আনতাম। আমাদের বাড়ী  আসতেন। অনেক কথা হতো।

ব্রিটেন থেকে মাঝে মাঝে সেলিম ভাইর সাথে ফোনে আলাপ হতো। ফোন ধরতেই সেলিম ভাই বলতেন, কেমন আছো? আমি বলতাম আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তিনি আমার পরিবারের খুঁজ খবর নিতেন সব সময়। তারা কেমন আছেন। আর বলতেন তোমার মেয়েতো ভালো বাংলা জানে। মাঝে মাঝে নিউজে তোমার মেয়েকে দেখি। ভালো লাগে।
করোনা ভাইরাসের এই সময়ে আমি চ্যানেল এসে অনেক নিউজ করেছি আর করছি।সেলিম ভাই আমাকে বললেন সাবধানে থেকো। সাবধানে নিউজ করিও। আমাকে সেলিম ভাই সাবধান করেছিলেন ঠিকই কিন্তু সেলিম ভাইকে করোনা ভাইরাসে না ফেরার দেশে নিয়ে গেলো।
সাংবাদিক আজিজ আহমদ চৌধুরী সেলিম ভাইর সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। আমি সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সাদার পাড়া আল আমিন যুব সংঘের সভাপতি ছিলাম প্রায় ১০ বছর।ব্রিটেন আসার আগ পর্যন্ত সফল ভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালান করেছি।এর আগে আল আমিন যুব সংঘের সেক্রেটারি  ছিলাম। তখন আমরা আল আমিন যুব সংঘের পক্ষ থেকে নিয়মিত নাটক করতাম,বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতাম।সেই সব অনুষ্ঠানে আমি সব সময় আমার প্রিয় সেলিম ভাইকে আনতাম।আমাদের বাড়ী  আসতেন।অনেক কথা হতো।

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে আমি চ্যানেল এসে অনেক নিউজ করেছি আর করছি।সেলিম ভাই আমাকে বললেন সাবধানে থেকো।সাবধানে নিউজ করি ও।আমাকে সেলিম ভাই সাবধান করেছিলেন ঠিক কিন্তু  তাকে এই করোনা ভাইরাসে না ফেরার দেশে নিয়ে গেলো।

আমার যখন যুক্তরাজ্য আসা চুড়ান্ত। তখন আমি দৈনিক  যুগভেরীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে হিসাবে কাজ করছি।একদিন অফিসে আমরা কাজ করছিলাম।তখন সেলিম ভাই বললেন শামীমতো আমাদের ছেড়ে চলে  যাচ্ছে ব্রিটেন।থাকেতো আমরা যুগভেরী থেকে একটি সংবর্ধনা  দিতে হবে।আমি ব্রিটেন আসার তিন দিন আগে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।সেই সময় সেলিম ভাই আমাকে একটি কলম গিফট দিয়েছিলেন। সেই কলমটি আমি অনেক যত্ন করে রেখে ছিলাম।

সেলিম ভাইর জানাযার নামাজ ১৯ অক্টোবর ২০২০ সোমবার বাদ যোহর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

১৮ অক্টোবর, রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি করোনা ভাইরাসের কোভিড-১৯ আক্রান্ত ছিলেন।

৮ অক্টোবর ২০২০ থেকে সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আজিজ আহমদ সেলিম ভাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সদাহাস্যোজ্জ্বল এই সাংবাদিক।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।  তিনি স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সিলেট নগরীর মজুমদারী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
অমায়িক বন্ধু বৎসল সদা হাস্যজ্জোল আজিজ আহমদ সেলিম ভাইকে সিলেটে গেলে আর দেখতে পারবো না মেনে নিতে কস্ট হচ্ছে। সেলিম ভাইয়ের সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিলো ২০১৮ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে। তখন আমি ব্রিটেন থেকে সিলেটে গিয়েছিলাম। অনেক কথা হয়েছে। ইস কে জানতো সেলিম ভাইয়ের সাথে এটাই আমার শেষ দেখা।
আমি বাংলাদেশের প্রাচীন আঞ্চলিক দৈনিক যুগভেরী পত্রিকাতে সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতাম তখন সেলিম ভাইয়ের সাথে প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একসাথে কাজ করতাম। কত স্মৃতি কত কথা মনে ভাসছে বলে বুঝাতে পারবো না। সেলিম ভাই চলনে বলনে আচার আচরনে ছিলেন আপাতমস্তক শান্ত ও চৌকস সম্পাদক। সিলেটবাসী একজন অমায়িক ও সিনিয়র সাংবাদিক নেতাকে হারালো । যার ক্ষতি অপূরণীয় ।
আল্লাহ যেন জানা অজানা ভূলভ্রান্তি ক্ষমা করে জান্নাতের মর্যাদা দান করেন কায়মনোবাক্যে সেই প্রার্থনা করি।