সাবিনা হত্যার দায় স্বীকার করলো আসামী কচি

ব্রিটিশ বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষিকা সাবিনা নেসা হত্যা মামলার আসামী কচি সেলামাজ আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ওল্ড বেইলি আদালতের শুনানিতে শুক্রবার কচি সেলামাজ হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের কিডব্রুক এলাকার কেটোর পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সাবিনা নেসার ওপর অতর্কিত হামলা করে তাঁর শ্বাসরোধ করে সেলামাজ। বন্ধুর সাথে একটি বারে দেখা করতে যাওয়ার পথে হামলার টার্গেট হন ২৮ বছর বয়স্ক সাবিনা নেসা। অপরিচিত কারো ওপর এ ধরনের হামলা করার পূর্ব পরিকল্পনা করেই আসামী ইস্টবোর্ণ থেকে লন্ডন এসেছিল বলে বলা হচ্ছে।আদালতের শুনানিতে হত্যা মামলার বাদী পক্ষের কৌঁসুলি এলিসন মরগান কিউসি বলেন, চরম সহিংসতার মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয় সাবিনা নেসাকে। এই হত্যার সাথে যৌনতা এবং ধর্ষকামীতার উপাদানও পাওয়া গেছে। শুনানিতে বলা হয়, সাবিনা নেসাকে দেখার পর আশেপাশে অন্য কেউ আছে কিনা, তা দেখে নেয় সেলামাজ। এরপর দৌড়ে গিয়ে ধাতুর তৈরি একটি ট্রাফিক ট্রায়াঙ্গল দিয়ে সাবিনাকে ৩৪বার আঘাত করে সেলামাজ। সাবিনা নেসা অবচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে তুলে নিয়ে পার্কে শ্বাসরোধ করে। এরপর ইস্টবোর্ণে ফিরে আসার পথে অস্ত্রটি নদীতে ফেলে দেয় সেলামাজ। আদালতের শুনানিতে বলা হয়, কচি সেলামাজ তাঁর আগের পার্টনারের সাথে সহিংস আচরণ করতো; গলার চারদিকে হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করার ভঙ্গিতে তাঁকে ধরতো।

হত্যাকাণ্ডের পরের দিন কেটোর পার্কে সাবিনার মৃতদেহ ঘাস দিয়ে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তখন তাঁর টাইটস ও আন্ডারওয়্যার খোলা ছিল এবং শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত ছিল।আদালতের শুনানিতে জানা যায়, হত্যার তিন দিন আগে ইস্টবোর্ণের ফাইভ স্টার গ্র্যান্ড হোটেলে রুম বুক দেয় সেলামাজ। ১৭ সেপ্টেম্বর সে হোটেলে আসে, ১৮ সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ড ঘটিয়ে রাতে ফিরে ফিয়ে সে একই হোটেলে অবস্থান করে। এবং পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর সে হোটেল ছেড়ে দেয়। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং কেটোর পার্কের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার অনেক সূত্র খুঁজে পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হোটেলের লবিতে যে জামাকাপড় কচি সেলামাজের গায়ে ছিল, কেটোর পার্কেও একই জামাকাপড় তাঁর গায়ে ছিল। ইস্টবোর্ণ থেকে লন্ডনে কচি সেলামাজের যাতায়াতের গতিবিধি নিশ্চিত করা হয় অটোমেটিক নাম্বার প্লেইট রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে তাঁর গাড়ি নিসান মাইক্রার ছবির মাধ্যমে। ১৮ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের পর ২৬ সেপ্টেম্বর ইস্টবোর্ণ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আসামী কচি সেলামাজকে।গত ডিসেম্বর মাসে আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করলেও ২৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ওল্ড বেইলি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে কচি সেলামাজ। আগামী ৭ এপ্রিল তাঁর শাস্তি ঘোষণা করবেন আদালত।

Advertisement