৫৩% মানুষ মনে করেন আবারও ক্ষমতায় আসবে ক্ষমতাসীন দল||মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সাউথ এশিয়ার সব দেশকে পেছনে ফেলে যাবে বাংলাদেশ

মতিয়ার চৌধুরী

আর মাত্র ক‘দির বাকি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের, দেশের মানুষ ভাসছে নির্বাচনী আনন্দে, শুধু আনন্দই নয় এর সাথে শংকাও রয়েছে ভোটারদেন মনে।

তবে সেদেশের ৫৩% মানুষই মনে করেন মহাজোট সরকার আবার ক্ষমতায় আসবে, বাকিরা ভিন্ন মত পোষন করেন, তবে অনেকেই সন্ধিহান যদি এই সরকার আবার সংখ্যগরিষ্টতা নিয়ে ফিরে না আসতে পারে তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেমন ব্যহত হবে , সেই সাথে উত্থান ঘটতে পারে জঙ্গিবাদেরও, বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মত মেগা প্রকল্প গুলো বন্ধ হয়ে যেযে পারে। আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচীর ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে কথা বলে আমরা এমনটিই নিশ্চিত হয়েছি।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রনে চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে লন্ডন ফিরে এসে আজকের এই লিখাটি ।
মূলতঃ আমাদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল সরকারের উন্নয়ন মূলককর্মকান্ড গুলো দেখতে।

১৯ ডিসেম্বর লন্ডন হিথ্রো বিমান বন্দরের চার নাম্বার টার্মিন্যাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনে বিজি ০২ ফ্লাইটে আমরা সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল যাত্রা করি ঢাকার উদ্দেশ্যে, বিমান বন্দরে আমাদের বিদায় জানান লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের একজন কর্মকর্তা।

প্রতিনিধি দলে আমার সাথে ছিলেন আনসার আহমেদ উল্লাহ, ডাকনাক ভারলেট, ফারহান মাসুদ খান, সেবিস্থিন ডান, সৈয়দ আনাস পাশা ও ফটো গ্রাফার কয়েছ মিয়া।

২০ ডিসেম্বর বাংলাশে সময় দুপুর বারটায় আমরা ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বনদরে পৌঁছাই সেখানে আমাদের রিসিভ করেন ফরেন অফিসের একজন কর্মকর্তা ও ঢাকা টিউবিনের প্রতিনিধি মিস শাহনিম, ষেখান থেকে আমাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় পাঁচতারকা রেডিসন ব্লু হোটেলে।

ওই দিন সন্ধ্যায় হোলেটে আই-সি-ই ব্যাকিং সেশনে সাংবাদিক-আইনবিদ সহ সমাজের গন্যমান্যদের সাথে, তাদের সাথে মত বিনিময় এবং ডিনার। পর দিন ২১ ডিসেম্বর সকাল দশটায় আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামে আমাদের সফরসঙ্গি হন ঢাকা টিউবিনের রিপোর্টার তাসনিম কিবরিয়া অর্পা, বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামে যাবার পথে আমাদের দেখানো হয় মেগা প্রকল্প বিশেষ করে মেট্রেরেল প্রজক্ট এর নির্মান কাজ। বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামে পৌঁছালে আমাদের স্বাগত জানান মিউজিয়ামের কর্মকর্তা অবসর প্রাপ্ত লেফটেন্ট কর্নেল কাজি সাজ্জাদ আলী জাহির বীর প্রতিক ও সিইও মাশহুরা হোসাইন, ক্যাপটেন (অবঃ) মোহাম্মদ শওকতুল ইসলাম, সেখানে প্রথমেই আমরা ফুল দিয়ে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাই।

এর পর আমাদের ঘুরে দেখানো হয় জাদুগরটি। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে কিভাকে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বৃত্তান্ত সম্পর্কে আমাদের ব্রিফ করেন বীর প্রতি জাহিদ আলী, তার বর্ননা শুনে আমরা আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই। সেখানে শোক বইয়ে আমরা সাক্ষর করি, আমাদের মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে জাতির জনকের ছবিসম্বলিত বুক এ্বং অন্যান্য সামগ্রী উপহার হিসেবে দেয়া হয়। প্রতিনিধি দলের সাত জনের পাঁচজনই আমরা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী বাকি দুজুন ব্রিটিশ তারাও আমাদের মতো আবেগ আপ্লুত হয়ে যান। সেখানে আমরা প্রায় দেড়ঘণ্টা অবস্থান,এর পর আমাদের নিয়ে আসা হয় ঢাকা ক্লাবে প্রথমে আমাদের সাথে মত বিনিময় হয় দেশের শ্রেষ্ট সাংবাািদকদের খ্যাতিমান সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ,এনএনবি‘র এডিটর ও ফেডারেল জার্নালিষ্ট অব ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মোল্লা জালাল, একাত্তর টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোজাম্মেল হক, কমনওয়েল্থ জার্নাালিস এসাসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাসান শাহরিয়া, অনন্যার এডিটর তাসনিম হোসাইন,বাংলাদেশ নিউজের আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, ঢাকা টিউবিন এডিটর জাফর সোবহান, ঢাকা টিউবিন এর রেজা আহমদ,ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত,বাসসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ, একুশে টেলিভিশনের মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা টাইমসের দিপিনতিয়া রয়, জই মামুন, মুন্নি শাহা সহ প্রিণ্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আরো অনেকে। তাদের সাথে মূলতঃ বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং লন্ডনে বসে তারেক রহমানের কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা হয়। এর পর আমাদের সম্মানে আয়োজন করা হয় মধ্যহ্ন ভোজের এর পর একই স্থানে আমাদের বৈঠক হয় দেশের শ্রেষ্ট আইনজীবিদের সাথে আনেকই আমাদের কাছে জানতে চান ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত লন্ডনে পালিয়ে থাকা চৌধুরী মইনুদ্দিন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক এবং তারেক রহমান সম্পর্কে, চৌধুরী মইনুদ্দিন এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিতে ব্রিটিশ এবং বাংলাদেশের আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এছাড়া আলোচনায় স্থান পায় সংবিধানের ৫৭ ধারা এবং সহিদুল আলম প্রসঙ্গ। আমাদের অভিমত হচ্ছে সরকার চেষ্টা করলে তারেক রহমান সহ সাজাপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেরার পথে শহীদ মিনার হয়ে ঢাকার আরো কয়েকটি মেগা প্রকল্প দেখে আমরা হোটেলে ফিরে আসি। পর দিন ২২ ডিসেম্বর সকাল আট ঘটিকায় যাত্রা শুরু করি পদ্মা সেতুর উদ্দেশ্য। আমাদের সফর সঙ্গি হন ঢাকা টিউবিনের রাব্বি ভাই সকাল ১১টায় আমরা পৌঁছাই পদ্মা সেতু এলাকায়, সেখানে আমাদের রিসিভ করেন পদ্মাবহুমুখী প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মোঃ আব্দূল কাদের সেখানে আমাদের সাথে মিলিত হন মুন্সিগঞ্জের সাংবাদিক রাকিব শেখ। প্রকৌশলী দেওয়ান কাদের প্রথমে আমাদের সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারনা দেন, হালকা চা-নাস্তা শেষে নিয়ে যাওয়া হয় সেতুর কর্মযঙ্গ দেখতে। এর পর আবার নিয়ে আসা হয় আমাদের রেষ্ট হাউজে সেখানে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ ভোজের, ভোজ শেষে যাত্রা করি ঢাকার উদ্দেশ্যে। ফেরার পথে গাড়িতে কথা হয় আমাদের সফর সঙ্গি সেবিস্থিন ও ডানকানের সাথে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে উভয়েই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বললেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে বাংলাদেশ সাউথএশিয়ার সবকটি দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে, এবং তা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশিলতার প্রয়োজন, সেই সাথে সরকারকে সব ধনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। ফেরার পথে কয়েকটি নির্বাচনী পথসভা এবং হতির ঝিল এলাকা এবং শহীদ মিনার হয়ে হোটোলে ফিরে আসি। পর দিন ২৩ ডিসেম্বর সকাল দশটা থেকে বারটা পর্যন্ত রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হয় সাংবাদিকদের সাথে রেডিন হেটেলে আলোচনার বিষয় বস্তু ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন ,এই রাউন্ড টেবিল আলোচনায় উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ সকলেই একমত যে দেশের উন্ননের ধারাবহিকতা এবং গণতন্ত্রে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশের রাজনৈতিক দল গুলোকে ্আরো মনোযোগী হতে হবে, দেশের স্বার্থকে প্রাধ্যান্য দিতে হবে। এর পর লাঞ্চ বিরতি বিরতির পর দুপর ২টা থেকে চারটা পর্যন্ত রাউন্ট টেবিল বৈঠক হয় ঢাকা ট্রিউবিনের আয়োজনে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস বাংলাদেশ এবং গ্লোবাল রেসপন্স নিয়ে। দুঘন্টা ব্যাপী বৈঠকে উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের পাশে দাড়াতে হবে, সেই সাথে বাংলাদেশ সরকারকে আরো সজাগ হতে হবে। এই রাউন্ট টেবিল বৈঠকে যোগদেন ফরেন অফিস, ইউ-এন-এইচ-সি-আর, ইউ-এন-ডি-পি, স্থানীয় বিশেজ্ঞ এবং ঢাকার সিনিয়র সাংবাদিক বৃন্দ। পর দিন ২৪ডিসেম্বর সকাল সাত ঘটিকায় আমাদের বিমান বন্দরে পৌছৈ দেয়া হয়, সকাল দশটায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি০১ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করি। লন্ডন সময় বিকেল চারটা বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় হিথ্রো বিমান বন্দরে পৌঁছাই। আমাদের বিশ্বাস বাংলাদেশের মেগাপ্রকল্প গুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী দশ বছরে বাংলাদেশ হবে সাউথ এশিয়ার অন্যতম একটি ধনী দেশ। নিজেও দেশের উন্নয়ন দেখে অবাক হয়েছি, বাংলাদেশ যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। তবে শুরুতে শংকার যে প্রঙ্গটি তুলে ধরে ছিলাম লন্ডন ফিরে এসে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ জনের ভাননাটি আমাকেও ভাবনায় ফেলেছে এখানে এসে বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারলাম বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে লন্ডন থেকে সরকার বিরোধীরা দেশে নির্দেশনা পাঠিয়েছে যে কোন উপায়েই হোক নির্বাচন যাতে প্রশ্ন বিদ্ধ হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার বিশ্বাস উন্নয়নের ধারাবাহিতকা বজায় রাখতে দেশের মানুষ তাদের পছন্দের দলকেই বেছে নেবে। নির্বাচন কমিশন সব ব্যবস্থা নেবে যাতে কেউ কোন ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি করে দেশকে পেছনে নিয়ে না যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement