নাটকীয় জয়ে শেষ আটে ইউক্রেন

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার নকআউটের পরীক্ষায় পাশ করলো ইউক্রেন। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক তখনই অসাধারণ গোলে সুইডেনকে হারায় তারা। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় গোলে উৎসবে মাতে ইউক্রেন। কারণ প্রথমবারের মতো ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল তারা।মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাতে গ্লাসগোর হ্যাম্পডেন পার্কে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে ইউক্রেন। অলেকসান্দার জিনচেঙ্কোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সুইডেনকে ম্যাচে ফেরান এমিল ফর্সবার্গ। আর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন আর্তেম।এদিকে সুইডেন নকআউটে এসেছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তবে ইউক্রেন এসেছিল গ্রুপ থেকে তৃতীয় অবস্থান নিয়ে। সেই দলই গেল শেষ আটে। আগামী শনিবার রোমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে তারা।যদিও শুরুতে ইউক্রেনকে চেপে ধরেছিল সুইডেন। তবে খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ২৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইউক্রেন। ডান দিক থেকে আন্দ্রে ইয়ারমোলেঙ্কোর ক্রসে প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের জোরালো ভলিতে জাল খুঁজে নেন ওলাক্সান্ডার জিনচেঙ্কো​। তার শট এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ওলসেনের বাঁ হাতে লাগলেও জালে জড়ায় বল।বিরতির আগে সমতায় ফেরে সুইডেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ফর্সবার্গের বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ফর্সবার্গ। গ্রুপের শেষ রাউন্ডে পোল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন জোড়া গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দল গতি বাড়ায়, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উভয় দলেরই শট আঘাত হানে গোলপোস্টে। ৫৫তম মিনিটে ইউক্রেনের সিডোরচুক, পরের মিনিটে ফর্সবার্গের নেওয়া শটও পোস্টে বাধা পায়। ৬৬তম মিনিটে সুইডিশ মিডফিল্ডার দেজান কুলুসেভস্কির শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। একটু পর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফর্সবার্গের জোরালো শট ক্রসবারে লাগে।এই আসরে দ্বিতীয়বার একই ম্যাচে তিনবার গোলপোস্টে বল লাগার ঘটনা ঘটলো। এর আগে পোল্যান্ড-স্পেন ম্যাচে এই ঘটনা ঘটেছিল।শেষ দিকে ভালো একটি সুযোগ পান কুলুসেভস্কি। ডি-বক্সে তার শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন এক ডিফেন্ডার। তাতে ১-১ গোলে শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে বড় ধাক্কা খায় সুইডেন। ৯৯তম মিনিটে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ভেসেডিনকে ফাউল করেন ড্যানিয়েলসন। প্রথমে রেফারি হলুদ কার্ড দিলেও ভিএআর যাচাই করে লাল কার্ড দেখান।ওই সুযোগ কাজে লাগায় ইউক্রেন। ১০ জনের দল সুইডেনের বিপক্ষে লড়ছিল তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক তখনই অসাধারণ গোল। তিন মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন আর্তেম।তাতে ইতিহাস গড়ার উৎসবে মাতে ইউক্রেন। ২০০৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর কোচিংয়ে এগিয়ে গেল ইউক্রেন।

Advertisement