একজন মোশতাকের মৃত্যু এবং কথা ও কলমের স্বাধীনতা

॥ জুয়েল রাজ ॥
কথা চলবে, কলম চলবে,  এই দাবীর সাথে আমি না শুধু,  যে কোন  মানুষ একমত হবেন। গণতান্ত্রিক একটি দেশে তাই স্বাভাবিক। চিন্তার স্বাধীনতা ছাড়া সভ্যতা অগ্রসর হয় না।  মোশতাকের  মৃত্যু পরবর্তী শাহবাগে প্রতিবাদের কথা চলবে, কলম চলবে শিরোনামের প্ল্যাকার্ড টি আমাকে আকর্ষিত করেছে।
কথার জন্য, লেখার  জন্য প্রাণ দিতে হবে কেন? ২৫ তারিখ থেকেই লেখক মোশতাকের মৃত্যু নিয়ে উত্থাল বাংলাদেশ উত্থাল শাহবাগ। লেখক মোশতাকের কারাগারে মৃত্যু নিয়ে দ্যা ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের চুম্বক অংশটি দিয়েই শুরু করি, আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গতকালও হাজিরা দিতে মুশতাক আদালতে এসেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছিল তার শরীর খারাপ। কিন্তু জামিন পাননি।’তিনি বলেন, ‘মুশতাক যদি গতকালও জামিন পেতেন তাহলে আমাদের হয়তো এই পরিণতি দেখতে হতো না। একজন আইনজীবী হিসেবে যতটুকু বুঝি যে এ মামলায় মুশতাকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে অভিযোগে জামিন না পাওয়ার কোনো কারণই ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি জামিন পেলেন না। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটা হত্যাকাণ্ড।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ঐদিন মামলাটিতে কিছু আসামীকে (সামি, তাসনিম খলিল) বাদ দেয়ার পুলিশ প্রতিবেদনের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ অধিকতর তদন্তের আবেদন করে যার উপর শুনানি ছিলো। মোশতাকের জামিনের কোন শুনানি ছিল না। মোশতাক কি লেখক হিসাবে গ্রেফতার হয়েছিলেন?  কিংবা কোন লেখার জন্য মোশতাককে গ্রেফতার করা হয়েছিল আমরা কি জানি সেটা? মোশতাক কে লেখক হিসাবে গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল একটি ফেইস বুক পেইজের এডিটর হিসাবে।
একেকটি মৃত্যু একেকটি পরিবারের জন্য কতোটা বেদনাদায়ক, দুর্বিষহ  হয়। সেই জানে যে হারায়। বলা হয়ে থাকে, জেল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। সেই নিরাপদ হেফাজতে যদি কেউ মারা যায়, সেই মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিবে সেটাই তো স্বাভাবিক। তাই জেলে থাকা  মোশতাকের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এতো ব্যাপক ভাবে।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন জন্ম মৃত্যু সব  সৃষ্টিকর্তার বিধান। অজ্ঞেয়বাদী, কিংবা অবিশ্বাসীরা ও প্রকৃতির নিয়ম বলেই মানেন। আর জেলেও অনেক মানুষ মারা যায়, অতীতে ও মারা গেছে, ভবিষ্যতে ও মারা যাবে। ইংল্যান্ডের ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান  অনুযায়ী বছরে প্রতি এক হাজারে ৩ দশমিক ৬২ জন মানুষ জেলে মারা গেছে। ২০২০ সালে মারা গেছেন মোট ৩১৮ জন।
আমেরিকায় সেটি হাজারে ৩ দশমিক ৫ জন। জেলে মৃত্যু হতেই পারে।
সেই ক্ষেত্রে মোশতাকের মৃত্যু আলাদা কেন? মোশতাক বিশেষ কেন?  তিনি লেখক ছিলেন বলে? তিনি বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক কুমির চাষ শুরু করেছিলেন বলে? নাকী আই এম বাংলাদেশি নামক পেইজটি বন্ধ হয়ে যাবে বলে?
২০১৬ সালে বাংলাদেশে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল হৃদরোগে মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে স্ট্রোক ও ক্যানসার। বাংলাদেশের জেলগুলোতে ঠিক কত মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তার কোন তথ্য অনলাইন ঘেটে পাইনি।
যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, চৌধুরী নাফিজ সারাফাতের বিরুদ্ধে কার্টুন একে জেলে পঁচে মরতে হয়েছে মোস্তাককে। এটি একটি ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে মানুষকে। মোশতাক গ্রেফতার হয়েছেন মূল যে কারণ আই এম  বাংলাদেশি নামক পেইজের এডিটর হিসাবে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় জড়িত থাকার জন্য। কিন্ত বেমালুমভাবে সেটি সবাই চেপে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুলকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছিল। দিদারুলের সূত্র ধরে, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকেও পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তারাই  ছিলেন এই মামলার মূল আসামি।
জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, সুইডেনে থাকা সাংবাদিক তাসনিম খলিলও রয়েছেন এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জুলকারনাইন, মানে আল জাজিরার সেই বিখ্যাত সামি।  সুইডেনে থাকা সাংবাদিক তাসনিম খলিল, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন,    আসিফ ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ, সাহেদ আলম ও ফিলিপ শুমাখার।
তাদের বিরুদ্ধে ‘ফেইসবুক ব্যবহার করে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস মহামারী সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিপ্রায়ে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানো, অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার’ অভিযোগ আনা হয়েছিল বলেই মামলার বিবরণে জানা যায়।
 একটি অভিযোগ তো এখন  প্রমাণিত, আল জাজিরার প্রতিবেদন। আরেকটি উদাহরণ দেই,তাদের পেইজে বঙ্গবন্ধুর চশমা ও পাইপের প্রদর্শনীর  ছবি দিয়ে সেখানে ক্যাপশনে লেখা এতো বড় চশমা বাসার  জানালায় লাগিয়ে দেয়া হউক, এত বড় পাইপ দিয়ে লাঙ্গল  বানিয়ে হালচাষ  করা যাবে। মুজিব বর্ষের লগো এডিট করে সেখানে ধর্ষণ বর্ষ  বানানো হয়েছে। গোলাম আযম নিয়ে তাদের পেইজে উচ্ছ্বাস ও দেখা গেছে। এমন শত শত  উদাহরণ আছে।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচুর কার্টুন আছে। আমাদের বেড়ে উঠা সময়ে, শিশির, রফিকুন নবী বা যিনি রনবী নামেই পরিচিত, পত্রিকার পাতায় এই দুই কার্টুনিস্ট এর রাজনৈতিক কার্টুন দেখেই বড় হয়েছি আমরা। তাদের  তো কোনদিন কিছু হয়নি। কিন্ত কিশোর বা তার সহযোগীদের ক্ষেত্রে কেন  হচ্ছে?
প্রবাদ আছে, মরা গাভী দুধালো হয়। তর্কের খাতিরে, ধরেই নিলাম ।  মোশতাক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিলেন। দিন বদলের স্বপ্ন দেখতেন। কুমির চাষ নিয়ে লেখার জন্য কি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল? মোশতাকের চিন্তার জায়গাটি ঠিক কি ছিল? সেটি তাদের পেইজ দেখলে যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবেন।
বেশ কিছু আলোচনা দেখলাম, বারবার বলা হচ্ছে পৃথিবীর কোথাও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বলতে কিছু নেই, শুধু বাংলাদেশেই এই কালো আইন প্রচলিত। সেটিও ডাহা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। ব্রিটেনের মত দেশে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিধান আছে ২০১৫ সাল থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস এর সেকশন ৩২ এ এই সংক্রান্ত আইন সন্নিবেশিত হয়েছে। সেখানে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং আর্থিক দন্ডের বিধান আছে।
আমেরিকায় ডিপার্টমেন্ট ওব জাস্টিজ ডিজিটাল আইনের সাজা বিষয়ক  ২১৩ পাতার একটি গাইডলাইন দেয়া আছে। কেউ চাইলে অনলাইন থেকে পড়ে নিতে পারেন। ডিজিটাল সিকিউরিটিকে অন্যান্য দেশে আইটি সিকিউরিটি এক্ট হিসাবে নামকরণ করেছে। জার্মান সহ ইউরোপের  অন্যান্য দেশে ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আছে।
কিন্ত আমরা বারবার বলছি বাংলাদেশে এই আইনের অপপ্রয়োগ  হচ্ছে। ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে ডিজিটাল আইনকে অনেকেই নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দেখেছি। এই অপব্যবহার এবং অপপ্রয়োগ  বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দিয়ে লাভ কি হয়েছে?  লাভের লাভ মুক্তচিন্তার লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির  মতো খুলে দেয়া হয়েছে সামিয়ানা টাঙিয়ে মাইক বাজিয়ে বিষাদগার আর ধর্মের নামে বিভাজন।  সেখানে এই আইন  প্রয়োগ হচ্ছে না। নাসির নগর রামু, রংপুর  সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন এর চিত্র দেখেছি। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেখানে ব্যার্থ হয়েছে।
জেলে কি মৃত্যু হতে পারেনা, কোন কয়েদী বা সাজাপ্রাপ্ত  আসামীর? স্বাভাবিক মৃত্যুতেও কারো হাত থাকেনা। জেলে আটককৃত  মোশতাকের যদি স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে থাকে। তাহলে কিছু বলার নেই। তবে কিন্তু হয়তো অনেক কিছু বলা যাবে।
তাঁর সঠিক চিকিৎসা হয়েছিল কী না। চিকিৎসার ত্রুটি ছিল কী না, এই সব নানান বিষয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। এবং এই প্রশ্নগুলো  উঠা ও স্বাভাবিক।
কিশোর মোশতাক দিদারুল কিংবা রাষ্ট্রচিন্তা যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকে, তার প্রতিবেদন মানুষকে জানান। শুধুমাত্র সরকারের  বিরোধীতার কারণে যেন অবিচার না হয়। আওয়ামী লীগের এই যাত্রাপথে  অনেক রক্ত জড়িয়েছে, গণতন্ত্রের  জন্য, মানুষের অধিকারের জন্য।  অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণে।
পুলিশের প্রয়োজন ছিলনা টিয়ার শেল কিংবা বুলেটের, যতক্ষণ না শাহবাগের আন্দোলন হিংসাত্মক না হয়ে উঠে। যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বা হওয়া উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা  বলছি না। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে কথা  বলছি না।
মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে, তাঁর চিন্তার মৃত্যু ঘটেনা। চিন্তা অবিনশ্বর,  আলোর মতো, সূর্যের মতো সত্য। চিন্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, একটা খুনের বিচারে শুধু দেহটার বিচার হয়। কিন্তু চিন্তার খুন হলে শুধু একটি দেহ নয়, সভ্যতাকে, প্রগতিশীলতাকে থমকে দেয়। চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি না হয়।
ব্রুনো, গ্যালেলিও, সক্রেটিস এখনো তাই,  সূর্য্যের মতো আলো ছড়ায়।রাজীব,  অভিজিৎ, অনন্ত, নিলয় নীল, সামাদ, দীপন, জাফর মুন্সীর,  জন্য যদি সেদিন এই প্রতিবাদটাই আশা করে ছিলাম। এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকো জানি মোশতাকের স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আসলেই জানা যাবে মৃত্যুর জন্য দায় কার।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি শামীমাকে ইংল্যান্ডে এসে আইনী লড়াইয়ের সুযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে না ব্রিটেন। গত  শুক্রবার ব্রিটেনের সুপ্রীম কোর্ট এই রায় দেয়। আর কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে, শামীমাকে ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার  জন্য হুমকি মনে করছে দেশটির আদালত।  মোশতাক কিশোরদের যদি  সরকার রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে তার প্রমাণ ও দিতে হবে সরকারকে।
অভিজিতের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ হয়নি বলে মোশতাকের  মৃত্যুতে প্রতিবাদ হবে না? কথা সেটি নয়। প্রতিবাদ অবশ্যই হবে। সেই প্রতিবাদ ও ঘুরে ফিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,  চিন্তার স্বধীনতা এইসবের সাথে ঘুলিয়ে ফেললে হবে না। সরকারের সমালোচনা কেন কেউ যদি স্বয়ং ইশ্বরের ও সমালোচনা করে আমি মনে করি তার সেই অধিকার আছে।
কিন্তু সেটি যেন রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ  করে না তুলে।
আই এম বাংলাদেশি পেইজের দায়িত্বে থাকার কারণে যদি এদের গ্রেফতার করা হয়ে থাকে, সেটিও আপনাকে মেনে নিতে হবে। সামনে নিয়ে আসা হয়েছে শুধুমাত্র সারাফাত এর কার্টুন। সারাফাত নিয়ে শেখ হাসিনা নিয়ে হাজার কার্টুন আঁকলেও কাউকে গ্রেফতার করা হবে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। শেখ হাসিনা ও সরকারের মন্ত্রী এমপি সহ প্রশাসনের সিনিয়র কর্তা ব্যাক্তিদের নিয়ে ফেইস বুক ইউটিউবে যে পরিমাণ গালিগালাজ, মিথ্যাচার, কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য প্রচার হয়। এদের কয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানেন?
প্রতিবাদ যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত না হয়। মোশতাকের মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র, সরকার কেউ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই এর সুষ্ঠ তদন্ত, হওয়া জরুরী। স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে এর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হউক। দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সেই সবের বিচার হউক।
শাহবাগে যারা আন্দোলন করছেন, করুন। আপনাদের দাবী কি, সেটি আগে পরিস্কার করুন। সরকারের পদত্যাগ নাকী মোশতাকের মৃত্যুর বিচার! মনে রাখবেন এক জর্জ ফ্লয়েড বদলে দিয়েছে আমেরিকাকে।  স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনকে গায়েবানা জানাজা দিয়ে বিভাজন করে  আপনাদের উদ্দেশ্যকে অনেকটাই পরিস্কার করে দিয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই গায়েবানা জানাজার সাথে বাংলাদেশ পরিচিত।
আবারও বলছি, কথা ও কলমের স্বাধীনতা চাই। তবে কোনভাবেই সেটা মিথ্যাচার নয়। চিন্তার স্বাধীনতা চাই। বাক স্বাধীনতা চাই যা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্ত সেই স্বাধীনতা যেন রাষ্ট্রকে ঝুঁকিতে না ফেলে দেয়। কথা ও কলমের স্বাধীনতা মানে মিথ্যাচার নয়।
কারণ এই দেশেই কিছু  মানুষ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটিয়েছিল।জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল।
 এই দেশেই ১৯৭৫ এর  ৩রা আগস্টে জেল হত্যা ঘটেছিল। রাতের আঁধারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মম ভাবে জেলের ভিতর হত্যা করা হয়েছিল।
পৃথিবীর একমাত্র  দেশ, সাংবিধানিক ভাবে এইসব  হত্যাকাণ্ডের  বিচার করা যাবে না মর্মে সংসদে আইন পাশ করে। এর পরে ইতিহাসের বিকৃতি আর মিথ্যাচার এর নমুনা আমরা দেখেছি।
( লেখকঃ ব্রিটেন প্রবাসী  সাংবাদিক ও কলামিস্ট)  
Advertisement