চট্টগ্রামে নব্য জেএমবির সামরিক প্রধান সেলিম গ্রেপ্তার

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ঘটনার ‘মাস্টার মাইন্ড’ ও নব্য জেএমবির সামারিক শাখার প্রধান সেলিমকে (৩৩) আজ গ্রেপ্তার করেছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার সেলিমকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার পোর্ট লিঙ্ক রোডের বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জঙ্গল পদুয়া এলাকায় তরুলতা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মো. সেলিম পেশায় একজন কাপড় দোকানের কর্মচারী। সেই দোকান কর্মচারীই নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করতেন। গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকাল দশটায় আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালত শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার ফারুকুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ বক্সে বোমা হামলার মামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া ৯ জনের জবানবন্দিতে আটজনই জবানবন্দিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তথা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সেলিমের নাম উল্লেখ করেছে। জহির নামে একজন জবানবন্দিতে বলেছে, সে নব্য জেএমবির দাওয়াতি শাখার প্রধান আর সেলিম সামরিক শাখার প্রধান। সেই সূত্র ধরেই সেলিমকে ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হয়।২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, শিশু ও পথচারী যুবকও রয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাফিক পরিদর্শক অনিল বিকাশ চাকমা বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এটি তদন্ত করছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই সঞ্জয় গুহ।ঘটনার পরদিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জঙ্গি কার্যক্রম নজরদারি সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ জানিয়েছিল- জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এই হামলার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন সবই নব্য জেএমবির। এর সঙ্গে আইএস’র সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement