ডিজিটাল প্রতারনা থেকে নিজেকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবেন (প্রথম পর্ব)

                ॥ ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী ॥

দিন দিন টেকনোলজি যত উন্নত হচ্ছে সেই সাথে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও ততই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। টেকনোলজি একদিকে আমাদের জীবনে যেমন সুফল আনছে। অন্যদিকে এর সঠিক ব্যবহার না করার জন্য অথবা আমাদের অজ্ঞতা কিংবা সরলতার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত বিড়াম্ভনার শিকার হচ্ছি। আধুনিক টেকনোলজির বদৌলতে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ব দিন দিন বাড়ছে। টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রতারক চক্র প্রতারণার নিত্য নতুন কৌশল আবিষ্কার করছে আর আমরা অনেক সময় না বুঝে প্রতারক চক্রে সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি। সুতরাং এই প্রতারকচক্রের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রতারকদের কৌশল সম্পর্কে আমাদের জানা একান্ত অবশ্যক। আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকবার এই সকল ডিজিটাল প্রতারকদের মোকাবেলা করেছি। এছাড়া আমার বন্ধু–বান্ধব এবং ক্লাইন্টদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে জনস্বার্থে প্রতরণার কৌশল এবং রক্ষার উপায় সম্পর্কে আমি আজ আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ:

যেমন ধরেন হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে। আমাদের দৈনন্দিনজীবনের যন্ত্রণার এখন নিত্য সঙ্গী হলো হোয়াটস অ্যাপমেসেজ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপ আর হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ এখন আমাদের মোবাইলের বেশিরভাগ জিবি দখল করে। আমরা যেখানে যা পাই তাই গ্রুপে শেয়ার করি। কারণে অকারণে শেয়ার আর শেয়ার। রাত নাই দিননাই, বুঝে না বুঝে শুধু শেয়ার। কিন্তু এই শেয়ারের ভয়ঙ্কর দিকগুলো আমরা জানিনা। কিছুদিন আগে হোয়াটস অ্যাপ নিয়ে বিলেতের খবরের শিরোনাম হলো সৌদির ক্রাউন প্রিন্স নাকি বিলিওনিয়ার আমাজানের মালিকের কাছে হোয়াটস অ্যাপে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। আর ঐ ভিডিওর মধ্যে এমন একটি ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিলো যা দিয়ে আমাজন বসের মোবাইলের সব তথ্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিলো। ঘটনা কতটুকু সত্য তা বিচার বিবেচনার বিষয় কিন্তু এক্সপার্টরা এর সম্ভবনা উড়িয়ে দেননি। এখন চিন্তা করুন একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে কতটুকু করা সম্ভব! সুতরাং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে আপনি শুধু আপনাকে বিপদে ফেলছেন না, বরং যাদের শেয়ার করছেন তারা সবাই বিপদে পড়ছেন।

পরামর্শ: হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ কাউকে পাঠানোর আগে ভালো করে মেসেজের উৎস সম্পর্কে জেনে নেন। এর প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষা করুন। শেয়ার করার আগে নিজের বিপদের পাশাপাশি অন্যের বিষয়টিও বিবেচনা করুন। শুধুমাত্ৰ নির্ভর যোগ্য লোকের কাছ থেকে পাওয়া মেসেজ শেয়ার করুন নিজেদের মধ্যে। বিশেষ করে না জানা উৎস থেকে পাওয়া ভিডিও মেসেজ পাঠানো ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

ফেসবুক:

এখন দেখা যাক ফেসবুক। আমরা ফেসবুকে সাধারণত চটকদার অ্যাপে হূমড়ি খেয়ে পড়ি। যেমন ৬০ বছর বয়সে আপনার কেমন ছবি হবে? অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্প আপনার প্রশংসা করছেন কিংবা আপনি ট্রাম্পের সাথে মোলাকাত করছেন এমন সব আজগুবি অ্যাপে নিজের ছবি ডাউন লোড করে শেয়ার করি। আপনি কি একবার ভেবেছেন এই সকল অ্যাপ কারা তৈরী করেছে? অথবা নিজে ডাউন লোড করে আপনার তথ্য অ্যাপ তৈরীকারি প্রতিষ্টানের কাছে শেয়ার করছেন কিনা? প্রায়ই দেখা যায় আমাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায়। অনেকে এ নিয়ে অনেক বিড়ম্ভনার মধ্যে পড়েন। আবার এই হ্যাক আইডি নিয়ে কিছু দিন আগে বাংলাদেশে অনেক লঙ্কা কান্ড ঘটে গেল। আসলে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পেছনে এই অ্যাপগুলো বিশেষ ভাবে দায়ী।

পরামর্শ: চটকদার আপে নিজের তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। যেকোন অ্যাপে তথ্য শেয়ার করার আগে অ্যাপের উৎস সম্পর্কে জানুন। তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ কিনা ভাবে দেখুন। সুতরাং চটকদার অ্যাপে নিজের ছবি সংযোজন করে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না।

প্রায় সময় আপনি মোবাইলে কিংবা ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি টেক্সট মেসেজ পাবেন।  আপনাকে একটি লিংক পাঠিয়ে বলা হবে আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড কেউ একজন চেঞ্জ করে ফেলেছে আর আপনি যদি ঠিক করতে চান তাহলে এই লিংকে গিয়ে চেঞ্জ করবেন। এটি আসলে এক ধরণের প্রতারণা ফাঁদ। এটি সাধারণত হ্যাকাররা আপনার পাসওয়ার্ড চুরি করে আপনার আইডি হ্যাক করার জন্য আপনার কাছে লিংক পাঠায়।

পরামর্শ: ফেসবুক কখনোই পাসওর্য়াড চেঞ্জ করার জন্য লিংক পাঠায়না। তাই ভুলেও এই ধরনণের লিংকে চাপ দিবেননা। আপনার যদি সন্দেহ হয় তাহলে আপনি সরাসরি ফেসবুক একাউন্টে সাইন ইন করে আপনার পাসওয়ার্ড চেক করে নিতে পারেন। অথবা পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করতে হলে আপনি ফেসবুকে সাইন ইন করে করবেন।

এটি একটি জনসচেতনতা মূলক পোস্ট ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ দিবেন।

লেখক:
ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
কন্ট্রিবিউটর, ব্রিট বাংলা২৪ এবং প্রিন্সিপাল সলিসিটার, কেসি সলিসিটর্স, লন্ডন।

Advertisement