বিনম্র শ্রদ্ধায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের জাতীয় শোক দিবস পালন

বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উদ্যোগে পালিত হল জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহদাত বার্ষিকী।

গত ১৯শে আগষ্ট ২০১৭, শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে স্বাধীনতা বিরোধী খুনী চক্রের হাতে নিহত অন্যান্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভার শুরুতেই এক মিনিট নিরবতা পালন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে উপস্থিত সবাই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা ও বিজ্ঞানী ডঃ নুরুন নবী যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশকে নিয়ে উনার লেখা ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ বইয়ের উদৃতি দিয়ে বলেন ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর সমস্ত প্রোটোকল ভঙ্গ করে, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় কিভাবে দুজন মেজর এতবড় ঘটনা ঘটাতে পারেন তার সঠিক তদন্ত এতবছ পরেও হয়নি। তৎকালীন সেনাপ্রধানসহ দেশের ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে সঠিক ইতিহাস রচনা করা প্রয়োজন। একুশে চেতনা মঞ্চের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ মামুন বলেন বছরে একবার শুধু পোস্টারে  ব্যানারে জাতির জনকের ছবি বড় করে তাকে স্মরণ করা হয়, আর ৩৬৪ দিন আজকালকার নেতাদের বড় বড় ছবির পিছনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দূরবীন দিয়েও ভাল করে দেখা যায়না। এটা কি জাতির জনককে অসম্মান করার সামিল নয়! বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুতফুন নাহার লতা তার বক্তব্যে বলেন আমরা আজ শঙ্কিত, যেভাবে সরকারের আশে পাশে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতীদের অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তাতে আমরা খুবই শঙ্কিত। আমরা চাইনা আর একটা ১৫ই আগষ্ট, আমাদের উচিৎ অতিতের ভূল থেকে শিক্ষা নেওয়া। আজ হয়ত আমাদেরকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু একদিন আমাদেরকেই দরকার হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষে, দেশের প্রয়োজনে দেশে ও প্রবাসে স্লোগান দিতে, আন্দোলন করতে।
​সভার এক পর্যায়ে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে নিয়ে কয়েকটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন হোমার কবিতা পুরস্কারে ভূষিত কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ।

আবৃত্তির এক পর্যায়ে কবির সাথে তাল মিলিয়ে উপস্থিত অনেকেই বলতে থাকেন ব ব ব – বায়ান্ন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ।
​আলোচনা সভায় আরো অংশগ্রহণ করেন নির্মূল কমিটির উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য শিতাংশু গুহ, সহসভাপতি যথাক্রমে ডঃ আব্দুল বাতেন, নিনি ওয়াহেদ, নাজনিন সিমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবলি ছাদেক, কন্ঠযোদ্ধা শহিদ হাসান, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিনি কাদির, লেখক ও সংগঠক কামাল হোসেন মিঠু, শুভ রায়, প্রমুখ। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য যথাক্রমে সউদ চৌধুরী, শফি চৌধুরী হারুন, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাত রায়, মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, রাশেদ আহমেদ, নাজমুল কাদির, ইসমাইল হোসেন স্বপন, প্রমুখ।

 

Advertisement