ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এক সারির কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ করবে

এম. হাসানুল হক উজ্জ্বল : ভারত সরকার আসাম ও করিমগঞ্জ অঞ্চলে বাংলাদেশের সীমান্তে এক সারির কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু করবে। এ লক্ষ্যে ভারত সরকার সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটা তারের অভ্যন্তরে  এক সারির কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ কাজ ভারত সরকারের দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনার অংশ। এ নিয়ে বেশ কয়েক বছর পূর্ব থেকেই ভারত সরকার সীমান্তে জরিপসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম চালায়। এ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষকরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটা তারের অভ্যন্তরে আবার এক স্থরের কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ করা হলে তাদের দখলিয় ক্ষেতের জমি হাত ছাড়া হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফ’র নির্যাতন বাড়বে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সীমান্তের গজুকাটা গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, সীমান্তে কাটা তারের বেড়ার ভেতরে আবার  এক স্থরের কাটা তারের বেড়া দেয়ার অর্থই হচ্ছে ভারত সরকার এ দেশের অমিংমাসিত হাজার হাজার একর জমি তাদের দখলে নিয়ে যাওয়া। ওই সাবেক জন প্রতিনিধির মতে, এক স্থরের কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করা হলে অনেক কৃষক তাদের দখলিয় জমি হারাবে। পাশাপাশি সীমান্তে ভারতীয়দের নির্যাতন অতিতের চেয়ে অনেকগুন বেড়ে যাবে।

তবে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, ভারত শুধু জুড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কিছু অরক্ষিত এলাকায় কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করার জন্য আমাদের অনুমতি নিয়েছে। পুরো সীমান্তে কাটা তারের বেড়ার ভেতর আবার বেড়া দেয়ার ব্যাপারে পতাকা বৈঠকে আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, পতাকা বৈঠকে উভয় দেশের দাবী দাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ দাবী তারা মেনে নিয়েছে।  সীমান্তে বিএসএফ’র অহেতুক গুলি করে মানুষ হত্যা প্রসঙ্গে বিজিবি তীব্র প্রতিবাদ জানালে, তারা আর অহেতুক গুলি করে মানুষ হত্যা করবে না বলে আস্বস্থ্য করে।

বুধবার এ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বিওপি সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে ইয়াকুবনগর বিএসএফ ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ইয়াকুবনগর কাষ্টমস অফিসে ৫২ বিজিবি ও ১৬৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে একসারি বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, বটুলী আইসিপি’র বিপরীতে বিদ্যমান বেইলী ব্রীজের পরিবর্তে বক্স কালভার্ট এবং সীমান্তে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে উভয় পক্ষের ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা স্বাক্ষর করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা।

এছাড়াও অবৈধ সীমান্ত পারাপার, নারী ও শিশু পাচার, সীমান্ত হত্যা-নির্যাতন, মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধ এবং গবাদিপশু চোরাচালান বন্ধের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিবিধ বিষয়াদির মধ্যে সীমান্তে গুলি বর্ষণ না করা, চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার প্রতিরোধ, নারী-শিশু ও মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ সীমান্ত পারাপার বন্ধ করা, নিচ্ছিদ্র সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সমন্বিত টহল বিষয়ে উভয় পক্ষমত পোষণ করেন এবং বিএসএফ বিনা কারণে সীমান্তে গুলি করবে না বলে বিজিবি আস্বস্থ্য করে। এছাড়া সীমান্তে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ সহবস্থান বজায় রাখার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির আলোকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত যে কোন সমস্যা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে একমত পোষণ করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ এবং বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৬৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট কুলদীপ রায় শর্মা।

Advertisement