স্কুল লাঞ্চ খেয়ে অ্যালার্জি থেকে ছাত্রের মৃত্যু

ব্রিটবাংলা রিপোর্ট : স্কুল লাঞ্চ খেয়ে মারাত্মক অ্যালার্জি থেকে মৃত্যু হয়েছে করণবীর চিমা নামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের। মরমান্তিক এই মৃত্যুর জন্য করণের মা রিনা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছেন।

পশ্চিম লন্ডনের গ্রিনফোর্ডের উইলিয়াম পেকিন হাইস্কুলে ঘটনার দিন গত ২৮ জুন বুধবার সকালে পাঠের মাঝখানে করণ চিমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার অ্যালার্জি আছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। ‘মিষ্টি’ স্বভাবের এক মেধাবী ছেলে ছিল করণ। ফুটবল খেলতে ভালবাসত এবং নিয়মিত কারাতে ক্লাসেও যেতো। সুপরিচিত এই ছাত্রকে সাহায্য করার জন্য স্কুলের স্টাফরা এগিয়ে যান। নিজেরা তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে জান। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে সে মারা যায়। হৃদয়বিদারক এই অকাল মৃত্যুর সময় করণের বাবা-মা তার পাশেই ছিলেন। বুধবার করণের মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হয়।

বুলিয়িং-এর কারণে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়ে করণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে দেখে সকাল সারা এগারটায় লন্ডন অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসকে এবং একইসঙ্গে পুলিশকেও ডাকা হয়।

করণকে তার স্কুলে উত্যক্ত করা হত বলে জানা যায়। দাবী করা হচ্ছে, তাকে সেদিন চীজ খাওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, করণের মুখে সজোরে ছুঁড়ে মারা হয়েছিল চীজ। অন্যদিকে তার মা দাবী করেছেন, বুলিয়িং বা চরমভাবে উত্যক্ত করতে যেয়ে পীড়নের এক পর্যায়ে করণের ঘাড়ে চীজ ঘষা হয়েছে। পারিবারিক বন্ধু হুমায়রা খান জানান, করণের লাঞ্চে তার অজান্তে চীজ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রদের অভিভাবকরা কেউ কেউ এটাকে বুলিয়িং বলতে নারাজ। নিছক খেলাচ্ছলে করণের মুখে চীজ ছুঁড়ে মাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টার সন্দেহে একই স্কুলের ১৩ বছর বয়সের এক বালককে সেদিনই পুলিশ গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানা যায়। ছেলেটি এখন জামিনে আছে। জুলাইয়ের শেষে তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ কাস্টডিতে নেওয়া হবে।

করণবীর চিমা কী করে অ্যালার্জেনে আক্রান্ত হলো লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ তার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

Advertisement