২য় দফা সংক্রমণের আশঙ্কায় হোঁচট খেয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজার

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজার মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। চীনের উহান শহর থেকে দৃশ্যত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সংক্রমণ এখন বিশ্বকে গ্রাস করেছে। তবে সম্প্রতি উহান থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই সেখানে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাড়ছে উদ্বেগ। তারই প্রভাব পড়েছে শেয়ার মার্কেটে । এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ শিথিল করার পর সোমবার উহানে নতুন করে ৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে এই সময়ে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে দেশজুড়ে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল তা শিথিল করা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমএসসিআইয়ের সূচকে সকালেই এমআইএপিজে০০০০পিইউএস-এর মূল্য পতন হয়েছে শতকরা ১ ভাগ, যদিও দু’দফা তারা সরাসরি লভ্যাংশে ছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক। সেখানে সূচকের পতন হয় শতকরা ১.৪ ভাগ। এরপরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সূচক। সেখানে সূচকের পতন হয়েছে শতকরা ১.৩ ভাগ। চীনের সিএসআই৩০০ সূচক প্রথমদিকে ধাক্কা খায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কেএস১১ সূচক পড়ে যায় শতকরা ০.৯ ভাগ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ যখন অর্থনেতিক কর্মকান্ডকে পুনরায় চালু করার জন্য বিধিনিষেধ আস্তে আস্তে তুলে নেয়ার চেষ্টা করছে, তখন দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশঙ্কায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। জার্মানির রবার্ট কোচ ইন্সটিটিউট বলেছে, জার্মানিতে করোনা ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে ১.১ ভাগে। একে করোনা ভাইরাস বিস্তারের ‘রিপ্রোডাকশন রেট’ বলা হচ্ছে। এই রেট বা হার একের বেশি হওয়া মানে তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে (এক্সপোনেনশিয়ালি) বিস্তার লাভ করছে। ভয়ের বিষয় হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার নাইটক্লাবগুলোতে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রাশিয়ায় একদিনে নতুন আক্রান্ত রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় প্রিন্সিপাল গ্লোবাল ইনভেস্টরসের প্রধান গ্লোবাল ইকোনোমিস্ট বব বাউর বলেছেন, বিশ^ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নতুন করে চালু করার ধরণ চীনের কর্মকান্ডকে অনুসরণ করে চালিত হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন করে তাদের কর্মকান্ড শুরু করেছে। কিন্তু সেটা সক্ষমতার মধ্যে নয়। বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু হলেও, চীনের বাসাবাড়ির মানুষগুলো এখনও সতর্ক। রেস্তোরাঁগুলো খোলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে আসনগুলো ফাঁকা। যানবাহন বিক্রি একেবারে নিচে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও এই একই চিত্র দেখা যাবে।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি রাখছে বিশ^বাজার। সোমবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ফেজ-১ বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে সমঝোতার বিরোধী তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চারটি জায়গা থেকে আমদানি স্থগিত করেছে। নাসডাক বলেছে, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যখাতে মার্কিন তিনটি শেয়ার সূচকে সবচেয়ে বড় অর্জন করেছে তারা। নাসডাক এখন ফেব্রুয়ারিতে অর্জিত তার সবোচ্চ অর্জন শতকরা ১০ ভাগের মধ্যে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে ড জনস ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ডিজেআইয়ের পতন হয়েছে শতকরা ০.৪৫। এসঅ্যান্ডপি৫০০ অর্জন করেছে শতকরা ০.০১ ভাগ। নাসডাক কম্পোজিত যোগ করেছে শতকরা ০.৭৮ ভাগ। ওদিকে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কায় ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সোমবার।

Advertisement